ফুটবল খেলে পরিবারে সুদিন ফিরিয়েছেন আঁখি
সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়শিপে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নেপালকে ৩-১ গোলে ধসিয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে বাংলার মেয়েরা। ইতিহাস গড়া এই জয়ে উল্লসিত দেশবাসী। এ কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের আক্তার হোসেন ও নাছিমা বেগম দম্পতির সন্তান আঁখি খাতুন।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় নারী ফুটবল দলের ডিফেন্সের খেলোয়াড় আঁখি খাতুনের বাবা আক্তার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, অনেক কষ্ট ও কটূ কথা সহ্য করে আঁখিকে ফুটবল খেলতে দিয়েছি। আমার স্বপ্ন ছিল আঁখি শুধু আমার মুখে না, সারাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তবে এই স্বপ্ন পূরণ হতো না যদি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু না করতেন। বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলেই আমার মেয়ে এতদূর যেতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই তিনি আমার পরিবারে একবার ১০ লাখ, আরেকবার তিন লাখ ও আরেকবার দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। শুধু তাই না, পাঁচ কাঠা জমিও উপহার দিয়েছেন।’
আঁখির বড় ভাই নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংসার এখন সুখের। আমাদের আর কোনো কষ্ট নেই। আগে আমাদের অভাব ছিল। মা মাঝেমধ্যেই নানাবাড়ি থেকে চাল-ডাল আনতেন। এখন আর আনতে হয় না।’
আঁখির বান্ধবী মনোয়ারা, তিশা ও উর্মি বলেন, ‘আমরা আঁখির সঙ্গেই পড়েছি। ও ছোটবেলা থেকেই ফুটবল, দৌড় ও জাম্পিং খেলায় প্রথম হতো। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’
পারকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলা উদ্দিন বলেন, ‘সেই ছোট আঁখি এখন সিরাজগঞ্জ তথা শাহজাদপুর না, সারাদেশের গর্ব। কেননা আঁখি ফুটবল খেলে পরিবারের দিন বদলে দিয়েছে।’
২০১৪ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবলে শাহজাদপুর ইব্রাহিম বালিকা বিদ্যালয়ের হয়ে খেলে প্রথম নজরে আসেন আঁখি। এরপর ২০১৫ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক আসে তার। ২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এ টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে আঁখি খাতুন গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।
এসআর/এএসএম