ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌর মেয়রের ছবি যুক্ত টিসিবির কার্ড বিতরণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় মেয়রের ছবি যুক্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ড বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে টিসিবির পণ্য বিতরণের কার্যক্রমে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। কার্ডে মেয়র তফাজ্জল হোসেনের ছবি, এক কোনায় স্বাক্ষর ও ওয়ার্ড নম্বর রয়েছে। সেই কার্ড জমা দিলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
টিসিবির পণ্য নিতে আসা আমেনা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘আমাকে এ কার্ড ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিয়েছেন। মেয়রের ছবি ছাড়া কার্ড আসলে পণ্য দেওয়া হয় না। তাই কার্ড নিয়ে এসেছি।’
বাঞ্ছারামপুর গ্রামের আল আমিন মেম্বার বলেন, ‘এ কার্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দিলেও কথা ছিল। কিন্তু সরকারি কর্মসূচিতে মেয়র কীভাবে নিজের প্রচারণা চালাতে পারেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের কোথাও জনপ্রতিনিধির ছবিসহ কার্ড দেওয়া হয় নাই।’
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজ বাদশা জাগো নিউজকে বলেন, ‘টিসিবির কার্ড পৌরসভা থেকে আমাকে দিয়েছে তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করতে। আমি শুধু বিতরণ করেছি।’
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়ের হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় টিসিবির সুবিধাভোগী ৮০ জন। সোমবার আমি সাভারে ছিলাম। পৌরসভার সচিব ফোন দিয়ে জানালেন ৮০টি টিসিবির কার্ড নিতে কাউকে পাঠাতে। আমি লোক পাঠিয়ে কার্ডগুলো এনে তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছি। সব কার্ডে মেয়রের ছবি ছিল। এর আগে অবশ্য আমরা সরকার নির্ধারিত ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করেছি। মেয়র আমাদের পৌরসভার অভিভাবক, তার বাইরে তো কথা বলতে পারি না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মেয়র তফাজ্জল হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কি মিত্র চাকমা জাগো নিউজকে বলেন, ‘টিসিবি পণ্যের বিতরণের জন্যে সরকার নির্ধারিত ফ্যামেলি কার্ড রয়েছে। সেই কার্ডেই পণ্য বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে কেউ কার্ড বানিয়ে পণ্য বিতরণ করতে পারবেন না। মেয়রের ছবি সংবলিত কোনো কার্ড বানিয়েছে কি-না তা জানা নেই। যদি এমন কার্ড বানিয়ে বিতরণ করে থাকেন, এর কারণ তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এএসএম