অস্বস্তিকর ঘাম ও দুর্গন্ধ কমাতে যা করবেন
গরম পড়তে না পড়তেই অনেকের জীবনে শুরু হয় এক অস্বস্তিকর সমস্যা হলো ঘামের দুর্গন্ধ। বাইরে বের হলেই ঘাম, অফিসে ঢুকেই অস্বস্তি, ভিড়ের মাঝে দাঁড়াতে সংকোচ-সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিব্রতকর অভিজ্ঞতা নয়, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় শরীরে অতিরিক্ত ঘাম জমে থাকলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ভেজা ত্বক ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
কেন বাড়ে ঘামের দুর্গন্ধ?
অনেকেই মনে করেন ঘাম থেকেই দুর্গন্ধ তৈরি হয়, কিন্তু বাস্তবে ঘাম নিজে তেমন তীব্র গন্ধযুক্ত নয়। আমাদের শরীরে থাকা ঘর্মগ্রন্থি থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ যখন ত্বকের ওপর থাকা ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, তখনই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে গন্ধ তৈরি হয়। বিশেষ করে অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি থেকে নির্গত ঘাম প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় ব্যাকটেরিয়ার জন্য এটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
মানসিক চাপ, ভয় বা উদ্বেগের সময় এই গ্রন্থি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম উত্তেজিত হলে ঘামের পরিমাণ ও তার গন্ধ-দুটোই বেড়ে যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসও ভূমিকা রাখে
খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, ঝাল খাবার কিংবা সালফারসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন লাল মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন বা ব্রকলি শরীরের ভেতরে এমন উপাদান তৈরি করতে পারে যা ঘামের সঙ্গে বের হয়ে গন্ধ বাড়ায়। তাই গরমের সময় খাদ্যাভ্যাসে পবির্তন আনা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের টক্সিন নির্গত হয় এবং গন্ধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিয়মিত ও সঠিক গোসল
ঘামের দুর্গন্ধ প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দিনে অন্তত এক থেকে দুইবার সাবান দিয়ে গোসল করা উচিত, বিশেষ করে বগল, ঘাড়, পা ও কুঁচকির অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা দরকার। প্রয়োজন হলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। গোসলের পর শরীর সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভেজা ত্বক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।
আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন
পোশাক নির্বাচনেও সচেতনতা প্রয়োজন। সুতির ও ঢিলেঢালা পোশাক ঘাম শোষণ করে এবং ত্বককে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। সিনথেটিক কাপড় ঘামের আর্দ্রতা আটকে রাখে, ফলে দুর্গন্ধ বাড়ে। নিয়মিত পরিষ্কার জামাকাপড় পরা এবং ব্যবহৃত কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলা উচিত।

ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টি-পার্সপির্যান্ট ব্যবহার
ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টি-পার্সপির্যান্ট ব্যবহারও কার্যকর হতে পারে। ডিওডোরেন্ট মূলত দুর্গন্ধ ঢেকে দেয় এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে, আর অ্যান্টি-পার্সপির্যান্ট ঘামের পরিমাণ কমাতে সাহায্য। বর্তমানে বাজারে পাওয়া স্প্রে বা রোল-অন পণ্যে এমন উপাদান থাকে যা গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
ঘরোয়া প্রতিকার
কিছু ঘরোয়া উপায়ও অনুসরণ করা যায়। হালকা গরম পানিতে সামান্য মধু মিশিয়ে গোসলের শেষে শরীরে ঢাললে ত্বক সতেজ থাকে। বেকিং সোডা পেস্ট বগলে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষিত হয়। গোলাপজল মিশ্রিত পানি বা নিমপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে ধোয়া ত্বককে শীতল ও পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এ সময় শরীরের স্বাস্থ্য ও সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। সামান্য সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললেই ঘামের দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে সহজেই মুক্ত থাকা সম্ভব।
সূত্র: ফেমিনা, হিন্দুস্তান টাইমস
- আরও পড়ুন:
ত্বকের জন্য ভাইরাল হওয়া স্কিনকেয়ার টিপসের ক্ষতিকর দিক
মেকআপের আগে প্রাইমার ব্যবহার জরুরি কেন?
এসএকেওয়াই