দুই গ্রামের বাসিন্দাদের ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নামা ভেলাকোপা ও টাপু ভেলাকোপা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের যেন সীমা নেই। একদিকে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, অপরদিকে খাল পারাপারের জন্য নেই কোনো ব্রিজের ব্যবস্থা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দুই গ্রামের হাজারও মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। পারাপারের সুবিধার জন্য গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে তৈরি করেছেন এই সাঁকোটি।

তবে বর্ষা এলেই ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ে কয়েকগুণ। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হতে হয় তাদর। আবার শুকনা মৌসুমে খালের পানি কমে যাওয়ায় কাদা ঠেলে পার হতে হয়। ফলে সারাবছর চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রামবাসীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। এছাড়া কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েন এখানকার কৃষকরা।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে একটি সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে ওই এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন। এছাড়া এই গ্রামে রয়েছে ভেলাকোপা নিউ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে পড়তে আসা শতাধিক কোমলমতি শিশুদের জন্য এই নড়বড়ে সাঁকোটি এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এলাকার শিশু-বৃদ্ধদের জন্য সাঁকোটি এখন যেন মরণ ফাঁদ। রেলিংবিহীন সাঁকোটিতে উঠতে ইচ্ছে না থাকলেও কোনো উপায় নেই। কেননা বাঁশের চাটাই বিছানো দুই ফুট প্রস্থ আর ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি ছাড়া পারাপারের আর কোনো পথ নেই। ফলে হতাশা, ক্ষোভ আর ঝুঁকি নিয়ে রোজ পারাপার হতে হচ্ছে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের। এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে হাজারও আবেদন আর অভিযোগ জমা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতায় গ্রামবাসীর কপালে জুটছে না একটি সেতু।

কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. আবু রায়হান বলেন, আমার কলেজে যেতে এই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হয়। এতে খুব কষ্ট হয়। আমাদের গ্রামে ভেলাকোপা নিউ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। ওপার থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করতে আসে। কেবল একটি ব্রিজ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের পারাপার হতে হচ্ছে।

jagonews24

ভেলাকোপা নিউ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোর্শেদা বিথী বলেন, আমরা তো ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাই। আমাদের স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুব চিন্তা হয়। ছোট বাচ্চারা বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে কোনে দুর্ঘটনা হলে এ দায় কে নেবে। এখানে একটা ব্রিজ হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

নামা ভেলাকোপা গ্রামের মো. বরজাহান আলী বলেন, আমরা গ্রামবাসী চাঁদা তুলে এই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছি। বন্যা, খরা সবসময় আমরা পারাপার হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ি। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। আমরা দ্রুত একটা ব্রিজ চাই।

jagonews24

ভেলাকোপা ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জমশেদ আলী টুংকু বলেন, আমি অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ঢাকা থেকে টিম এসে পরিদর্শন করে গেছে। চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত ভেলাকোপা খালে একটা ব্রিজ হয়।

কুড়িগ্রাম পৌর মেয়র মো. কাজিউল ইসলাম বলেন, নামা ভেলাকোপা ব্রিজের চাহিদা কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফান্ডের ব্যবস্থা হলে কাজ শুরু হবে।

এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।