এবার ট্রেন ভ্রমণের বকেয়া টাকা পরিশোধ করলেন মাদরাসা শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
এমদাদুল হকের সঙ্গে ট্রেন ভ্রমণের বকেয়া দিতে আসেন মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান

 

জীবনে দেনার দায় এড়াতে বিভিন্ন সময় ট্রেন ভ্রমণের বকেয়া ২৫৩০ টাকা নিজে এসে পরিশোধ করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল এমদাদুল হক (৬৫)। ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নিজে এসে বকেয়া হিসেব করে টাকা পরিশোধ করেন। তার এ উদার মনোভাব দেখে অনুপ্রেরণায় এবার রেলওয়ের বকেয়া ১০১৫ টাকা পরিশোধ করলেন মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান নামের এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন কাউন্টারে বকেয়া টাকা জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দুদকের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল এমদাদুল হক। মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেরকুটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি মাদরাসার শিক্ষক।

মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসানের ভাষ্যমতে, খুব কম সময়ই তিনি টিকিট বিহীন ট্রেন ভ্রমণ করেছেন। অনেক সময় জরুরি রেল ভ্রমণের কারণে টিকিট কাটতে পারেননি৷ হিসাব করলে হাতেগোনা কয়েকদিন হবে। সব মিলিয়ে ১০০০ টাকা দিতে চাচ্ছিলেন, টিকিটের হিসাব মিলাতে গিয়ে ১০১৫ টাকার স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটতে হয়েছে।

তিনি বলেন, দুদকের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল এমদাদুল হক পূর্বপরিচিত। তিনি যখন পুরাতন ভাড়া বাবদ টিকিট কাটেন তখন সেই খবরটা আমাকে উৎসাহিত করে। আমি সুযোগ খুঁজছিলাম কীভাবে আমার জীবনের বকেয়া রেল ভাড়া পরিশোধ করা যায়। তখন এমদাদুল সাহেবের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি নিজেই আমাকে কাউন্টারে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ১০১৫ টাকার আসন বিহীন টিকিট কেটে ভাড়া পরিশোধ করি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, সকালে এমদাদ কল দিয়ে বলেছিলেন, উনার এক বন্ধু বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে চান। পরে তিনি বিকেলে আসবেন বলে জানান। যেহেতু আমাদের বকেয়া ভাড়া জমা নেওয়ার সুযোগ নেই, তাই বিকেলে কাউন্টারে এসে ১০১৫ টাকার স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে বকেয়া হিসাবে পরিশোধ করেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।