সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সচেতনতা, কমছে জলাতঙ্ক
সিরাজগঞ্জে সচেতনতা বাড়ায় কমেছে জলাতঙ্ক। তবে জেলাজুড়ে বেড়েছে কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে বেড়েছে টিকা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাতঙ্ক কমছে বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের জীবন্নাহার জানান, জেলায় ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর টিকা নিয়েছে পাঁচ হাজার ৫১৩ জন। যা ২০২১ সালের শেষের ছয় মাসে এ সংখ্যা ছিল চার হাজার ৭০৩।
জানা গেছে, জেলায় গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হচ্ছে। তাদের প্রায় ৩২ শতাংশই শিশু। যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে কামড়ের সংখ্যা বাড়লেও টিকা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় কমে আসছে জলাতঙ্ক।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, মায়ের হাত ধরে এসেছে ৫ বছরের শিশু নিশাত। হাঁটছে খুঁড়িয়ে। কারণ, পায়ে কামড় দিয়েছে কুকুর। জলাতঙ্ক যেন না হয় সে জন্য মা নিয়ে এসেছে টিকা দিতে।
রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু। বাড়ির পাশে বসে রুটি খাচ্ছিলেন, হঠাৎ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। সেও এসেছে টিকা নিতে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কাজী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড় বাড়লেও কমেছে জলাতঙ্ক। কারণ প্রত্যেকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে কাউকে কুকুর কামড় দিলে তাৎক্ষণিক টিকা নিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন রামপদ রায় বলেন, কুকুর মারা নিষেধ থাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। যে কারণে কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। ফলে টিকা নেওয়ায় কমেছে জলাতঙ্ক রোগ।
এএইচ/জিকেএস