সাকমো-ফার্মাসিস্টে চলছে ছাওয়ালী বাজার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২২
ছাওয়ালী বাজার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের ছাওয়ালী বাজার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে চিকিৎসক আছেন সে কথাই জানেন না এলাকার লোকজন। এলাকাবাসী সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) ও ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে আসছেন। এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক আছেন কিন্তু তিনি আসেন না এ কথা জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার লোকজন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ছাওয়ালী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা. আইরিন সুলতানাকে পদায়ন করলেও তিনি অফিস করবেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, তার পদায়নপত্রে এ কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য তাকে কোনোরকম নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বর্তমানে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ডা. আইরিন সুলতানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। মাঝে মধ্যে তিনি ছাওয়ালী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রোগীদের সেবা দিতেন। এরপর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন। গত ২৩ জুলাই তিনি পুনরায় ওই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের সেবা দিতে শুরু করলেও ২৮ জুলাই থেকে সেখানে আর যান না। এতে ওই এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধও পাচ্ছেন না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার, একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন এমএলএসএস কর্মরত থাকার কথা। কিন্তু উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তার আইরিন সুলতানা গত দুই মাস ধরে কর্মস্থলে যান না। এমএলএসএস পদটিও শূন্য আছে দীর্ঘদিন ধরে। সাকমো ও ফার্মাসিস্ট দুজনে দিন ভাগ করে কর্মস্থলে আসেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। রোববার (২ অক্টোবর) ফার্মাসিস্ট অনিতা সাহা কর্মস্থলে আসেননি।

এদিকে, চিকিৎসক না থাকায় এলাকার রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন সাকমো নজরুল ইসলাম ও ফার্মাসিস্ট অনিতা সাহা। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে এলাকার মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম মিয়া, আতার মিয়া, সজিব মিয়া জানান, এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে এমবিবিএস চিকিৎসক আছেন এ বিষয়টি তাদের জানা নেই। তাছাড়া যে দুজন চিকিৎসা দিয়ে থাকেন তারা একসঙ্গে আসেন না। একেক দিন একেকজন আসেন। তাও আবার দুপুর ১টার মধ্যে চলে যান।

স্থানীয় আজিজুল হক বলেন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ডাক্তার না থাকায় এলাকার দরিদ্র মানুষকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

লোকমান মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, সবাই ওষুধ চাইলেও দেয় না। বলে ওষুধ নাই। কিন্তু মানি-গুনি লোকদের ওষুধ দেওয়া হয়। তারা ঠিকমতো ডিউটি করেন না।

মজিদ মিয়া জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোনোদিন সকাল ৯টা আবার কোনোদিন ১০টায় খোলা হয়। আবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বন্ধ করে চলে যান।

মহেড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এখন করুণ দশা। কারণ এখানে এমবিবিএস ডাক্তার আসেন না। যারা কর্মরত আছেন তারাও নির্ধারিত সময়ে আসেন না। আবার দুপুর ১টার মধ্যেই চলে যান। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ পাওয়া থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।

ছাওয়ালী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট অনিতা সাহা বলেন, রোববার থেকে তিনদিনের পূজার ছুটিতে আছি। এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার ট্রেনিংয়ে আছেন।

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ছাওয়ালী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট অনিতা সাহার ছুটির আবেদনপত্র আমি পাইনি। তাকে কারণ দর্শানোর পত্র দেওয়া হয়েছে।

এস এম এরশাদ/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।