জেলা পরিষদ নির্বাচন

নেত্রকোনায় ভোটের মাঠে দুই সতিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২২
আনোয়ারা বেগম ও সুরমী আক্তার

নেত্রকোনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে ভোটযুদ্ধে দুই সতিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে, ওই দুই সতিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে এলাকায় চলছে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা।

দুর্গাপুরে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া দুই সতিন হলেন- আনোয়ারা বেগম ও সুরমী আক্তার। তারা দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র ও বালু ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিনের স্ত্রী। আলালের প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগম লড়ছেন তালা প্রতীক নিয়ে। আর ছোট স্ত্রী সুরমী আক্তারের প্রতীক অটোরিকশা।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে নেত্রকোনায় সংরক্ষিত নারী সদস্যে তিন পদে ১২ জন ও সাধারণ সদস্যে ১০ পদে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে দুর্গাপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে মেয়র আলাল উদ্দিনের দুই স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও সুরমী আক্তার। সেখানে তারা দুজন ছাড়াও জুয়েল মিয়া ও মো. আবদুল করিম নামে দুই পুরুষ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ শেখ।

আর আলাল উদ্দিনের বালু ব্যবসার একজন সহযোগী জানান, আনোয়ারা বেগম আলালের প্রথম স্ত্রী। তিনি দুর্গাপুর পৌরশহরের আত্রাখালী এলাকায় বসবাস করেন। আর সুরমী আক্তারকে নিয়ে আলাল শহরের তেরিবাজার এলাকায় থাকেন। তবে আলাল বেশ কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। বর্তমানে ঢাকার শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। তাই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে একই পদে আলালের দুই স্ত্রীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত ওই ব্যবসায়িক অংশীদার বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রী সুরমী আক্তারের প্রতি মেয়রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে অনেক বারণ করেও তিনি ফেরাতে পারেননি। এর পেছনে হয়তো কিছু লোকের ইন্ধন রয়েছে। দুই স্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে মেয়র আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই বিব্রত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সতিন আনোয়ারা ও সুরমীর মধ্যে অনেক আগে থেকেই সম্পর্কের বৈরিতা রয়েছে। দুজনের নির্বাচনী পোস্টারেই তারা স্বামীর নাম ও পরিচয় উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে সুরমী আক্তার বলেন, আমার নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বামী অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছিলেন। তা ছাড়া পারিবারিক সিদ্ধান্তেই আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার সতিন আনোয়ারা বেগমকে প্রার্থী করেছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, মেয়রের যখন কিছুই ছিল না, তখন আমিই তাকে আঁকড়ে রেখেছি। এখন তার টাকা-পয়সা, প্রতিপত্তি সব হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকেন। ওই নারী যা বলেন, মেয়র তাই করেন। এবার আমার কর্মী-সমর্থকরা আমাকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখতে চান। তাদের সমর্থনে আমি প্রার্থী হয়েছি।

এইচ এম কামাল/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।