নওগাঁয় খাস সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২২

নওগাঁয় শহরের প্রাণকেন্দ্র গোস্তহাটির মোড়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের খাস-সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লিটন ঘোষ নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। গত একমাস থেকে এ দখলদারি চললেও বিষয়টিতে উদাসীন পৌর কর্তৃপক্ষ। মোটা অঙ্কের টাকায় মেয়র ও কাউন্সিলরকে ম্যানেজ করেই এই সরকারি সম্পদ দখলের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্পত্তিটি উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, শহরের গোস্তহাটির মোড়ে নব্বইয়ের দশকে পৌরসভার ডিম ও তরকারির বাজার ছিল। বর্তমান ওই জায়গাটিতে শৈলগাছী ইজিবাইক স্ট্যান্ড হয়েছে। ২০০২ সালের দিকে বাজারটি স্থানান্তর হলে সেখানে টিন দিয়ে দোকানপাট তৈরি করে দখলে নেন প্রভাবশালী লিটন ঘোষ। দোকানগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করে আসছিলেন তিনি। বর্তমানে টিনের দোকানগুলো ভেঙে জমিটি স্থায়ীভাবে দখলে নিতে ইটের গাঁথুনি দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

শহরের ভেতরে প্রকাশ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ কাজ বন্ধে সম্প্রতি সচেতন এলাকাবাসী গণজমায়েত হয়ে মানববন্ধন করলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি।

ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জুয়েল দাস, ইজিবাইক চালক মনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই বলেন, ওই জমিতে এক সময় হাট-বাজার ছিল। পরে তা স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে বিভিন্ন টিনের দোকান দিয়ে ২০০-৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করেন লিটন। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এখন দেখছি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করছে। মানববন্ধন করে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের জানিয়েও নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি। মেয়র ও কাউন্সিলরদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে দখলদার লিটন ঘোষ সম্পত্তিটি নিজের বলে দাবি করে বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই আমরা জমিটির ভোগদখল করে আসছি। কিছু দোকানপাট করে নিয়মিত সেখান থেকে ভাড়া উত্তোলন করা হয়। পৌরসভাকে ম্যানেজ করেই এখন স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এখানে কতটুকু জমি ব্যক্তিমালিকানা এবং কতটুকু খাস সেটা পৌরসভা বুঝবে। তারা এসে দেখেও গেছে।

স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক মজনু বলেন, বিষয়টি মেয়র জানেন। ওই স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। আমার একার পক্ষে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। মেয়রের নির্দেশনা পেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হয়। এসব দেখভালের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের দেওয়া হয়েছে। জমিটি আদৌ পৌরসভার কী না, সেটিও আমার জানা নেই।

জানতে চাইলে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূমি অফিস থেকে নায়েবকে পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র নিয়ে লিটন ঘোষকে রোববার ভূমি অফিসে আসতে বলা হয়েছে। এরপরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ কাজ চলমান রাখলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্বাস আলী/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।