ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে

রাজীবুল হাসান রাজীবুল হাসান ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে বাজারজাত করছে আহিল পলি পেট্রোলিয়াম নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিনব এ পদ্ধতির উদ্ভাবক ইউসুফ আহমেদ গালিব নামের এক যুবক। ইউসুফ আহমেদের দাবি, এ পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল উৎপাদন করায় একদিকে যেমন জ্বালানি সংকট দূর হবে, তেমনি দূষণ থেকেও পরিবেশ রক্ষা পাবে।

২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের সেপকো কোম্পানির সঙ্গে ইন্টারনেটে যোগাযোগ করেন ইউসুফ আহমেদ। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে ওই বছরই সেপকো কোম্পানির কাছ থেকে প্যাটার্ন সংগ্রহ করে ভৈরব পৌরশহরের পুলতাকান্দায় পরীক্ষামূলকভাবে আহিল পলি পেট্রোলিয়াম কারখানা গড়ে তোলেন। ২০২০ সালে কারখানাটি উৎপাদনে আসে।

jagonews24

প্রথমে শহরের পরিত্যক্ত পলিথিন সংগ্রহ করে মেশিনে ছোট ছোট করা হয়। তারপর সেগুলোকে চুল্লির মাধ্যমে আগুনে তাপ দিয়ে তিন ধরনের জ্বালানি তেল তৈরি করে বিক্রি করছেন এই যুবক।

প্রতিদিন ১২০ কেজি পলিথিন থেকে ৭০ লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে এই পদ্ধতিতে। এখানকার উৎপাদিত জ্বালানি তেল মানসম্মত বা ব্যবহার উপযোগী কি না তা পরীক্ষা করে ২০১৯ সালে তেল উৎপাদনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ লিটার জ্বালানি তেল উৎপাদন করে তা কম দামে বিক্রি করছেন ইউসুফ আহমেদ। এতে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। কারখানাটিতে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন।

ময়মনসিংহ থেকে জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানাটি দেখতে আসেন মোহাম্মদ আলী নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ দৈনিক যে পরিমাণ পলিথিন ব্যবহার করছে তাতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্প চালু করতে পারলে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে নিজেও লাভবান হওয়া যাবে।

প্রতিমাসে নিজের মোটরসাইকেলে তেল নিতে ভৈরবের তেল উৎপাদনকারী কারখানাটিতে আসেন কটিয়াদি এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পেট্রল পাম্প থেকে লিটারে ১০ টাকা কম দামে কিনতে পারছি। ১০ লিটার তেলে ১০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এখানে উৎপাদিত জ্বালানি তেল মানসম্মত। মোটরসাইকেলে কোনো সমস্যা হয় না।’

jagonews24

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিনই নানান কাজে অনেক পলিথিন ব্যবহার করে থাকি। আমরা ব্যবহৃত সেই পলিথিন ফেলে দেই। ফেলে দেওয়া সেই পলিথিন সংগ্রহ করে স্থানীয় বাসিন্দা গালিব জ্বালানি তেল উৎপাদন করছে। সরকারের উচিত তাকে সহযোগিতা করা।

তার উৎপাদিত জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকায় কারখানাটিকে আরও বড় পরিসরে গড়ে তুলতে চান বলে জানান তরুণ উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব।

তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের কারখানা গড়ে তুলতে চাই। এতে জ্বালানি তেলের সংকট কিছুটা হলেও কমবে। পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থান হবে। পরিবেশ বাঁচবে। জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে।

এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।