প্রার্থী ভুলত্রুটি করলে দায়ভার এমপির: প্রচারণায় উপজেলা চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে এক সদস্য প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্দেশে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতীক বিরােদ্দের পর জেলা পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড নবীনগর উপজেলায় নাসির উদ্দিনের পক্ষে তিনি বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের বার্তা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ প্রার্থীদের।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী নাসিরউদ্দিনের পক্ষে পৌর এলাকার কাঠপট্টিতে এক সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বক্তব্যে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সভায় দেওয়া বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, ‘তার (প্রার্থী নাসির উদ্দিন) কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করবেন। আগামীতে সে কোনো ভুলত্রুটি করলে এর দায়ভার আমি, সাদেক (উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান) এবং এমপির। আমরা কথা দিয়ে গেলাম। এতে আপনাদের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকবে না। এমপি মহোদয় স্পষ্ট দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। আর এমপি মহোদয় কেমন মানুষ আপনারা জানেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারও দিন সমান নাহি যায়। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে ধরা। আমিও ৪-৫ বছর পর আপনাদের কাছে ধরা থাকবো। এমপি মহোদয়কেও মাত্র দেড় বছর পর আপনাদের কাছে আসতে হবে। শুধু আমরা চাই সে (নাসির উদ্দিন) আপনাদের এলাকার সন্তান, তাকে আপনারা জয়যুক্ত করবেন। আমি যদি চাই, এমপি যদি চায় তাহলে আপনার ঘরের সন্তানকে কোলে নিতে পারবেন না কেন?’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার প্রস্তাব থাকবে আপনারা চেয়ারম্যানরা একসঙ্গে বসে পরামর্শ করেন। প্রয়োজনে এমপি মহোদয়ও থাকবেন। বেশ কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এমপি মহোদয় কথা বলেছেন।’

সরাসরি এক প্রার্থীর পক্ষে এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের প্রচারণায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অন্য প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে সদস্য প্রার্থী বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে উপজেলা চেয়ারম্যান এমপির নির্দেশনায় এক সদস্য প্রার্থীর প্রচারণায় নেমেছেন, তিনি নিজেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। আর এমপি সবসময় দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি এমপি হয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নিয়ম অনুযায়ী প্রচারণা চালাতে পারেন না।’

সদস্য প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘বর্তমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলের বিরোধিতা করে আসছেন। উপজেলা নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি অবশ্যই তিনি ভঙ্গ করছেন।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানকে এমপি বানিয়েছেন। সুতরাং তার পক্ষে তো উপজেলা চেয়ারম্যান কথা বলবেনই। এই দেশে সবই সম্ভব, অসম্ভবের কিছু নাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, নাহলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতাম।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নবীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মোবাইলে কল দিলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থি।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।