জমি বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ কারাগারে ৪

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২২

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পাঠানসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

বাকি তিনজন হলেন- আনিসুর রহমান পাঠানের ছেলে হৃদয় পাঠান (২৭), রংছাতি গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম (৪০) ও আবু বকর সিদ্দিক (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ৪৬ শতক জায়গা নিয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আনিসুর রহমান পাঠান এবং রংছাতি গ্রামের বাসিন্দা খুশিকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। চেয়ারম্যানের দাবি ওই জায়গাটি পরিষদের। আর ইউনুস আলীর দাবি জায়গাটি তিনি ক্রয় সূত্রে মালিক। জায়গা নিয়ে পরিষদ ও ইউনুস আলীর মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ইউনুস আলী ওই জায়গায় দুটি ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। সম্প্রতি ওই জায়গায় ইউনুস আলী বিভিন্ন জাতের গাছের তিন শতাধিক চারা লাগালে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে লোকজন ওই চারাগুলো ও সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলে দেয়। এ নিয়ে ইউনুস আলী আদালতে মামলা করলে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। পূর্ব বিরোধের জেরকে কেন্দ্র করে গত বুধবার সন্ধ্যায় আনিসুর রহমান পাঠান লোকজন নিয়ে ইউনুস আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুরসহ মারধর করা হয়। এতে ইউনুস আলী (৩৮), তার চাচাতো ভাই মামুনুর রশিদ (৫৭) ও আতাউর রহমান (৪৩) গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। সংঘর্ষ চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভেতরেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পরিষদের একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন ও একটি কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। ঘটনায় পুলিশ চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পাঠান, তার ছেলে হৃদয় পাঠান এবং ইউনুস আলীর পক্ষের আসাদুল ইসলাম ও আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে। পরে ওই দিন রাতে ইউনুস আলীর স্ত্রী খুশিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা আক্তার বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় চেয়ারম্যান, তার ছেলে হৃদয় পাঠান, চাচাতো ভাই মাসুম পাঠান (৪০), ভাতিজা মাণিক পাঠান (৪৫), সাইদুর পাঠান (৩৫), জিল্লুর রহমান পাঠান (৩৬) ও মাজহারুল ইসলামের (২০) নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ আটক চেয়ারম্যান ও তার ছেলে হৃদয়কে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে ইউনুস আলীর পক্ষের আটক দুজনকে ফৌজদারি আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে ইউনুস আলী বলেন, ওই জায়গাটি দীর্ঘদিন আগে সাফ কাওলা দলিল মূলে আমি একজনের কাছ থেকে ক্রয় করি। আমার ভোগদখলে থাকা জায়গা দখল করতে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ আমাদের জখম করেছেন। এরপর তিনি বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে পরিষদের ফটোস্ট্যাট মেশিনে আগুন দিয়ে আমাদের ফাঁসাতে চেয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, ইউনুস আলীর স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলেকে এবং ফৌজদারি আইনে মো. আসাদুল ইসলাম ও আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এইচ এম কামাল/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।