পাবনার শিশুদের বাতিঘর ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’

আমিন ইসলাম জুয়েল আমিন ইসলাম জুয়েল , জেলা প্রতিনিধি ,পাবনা
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২২

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবগুলোতে স্থাপিত হয়েছে ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’। শিশুদের মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ও তাদের সামনে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আরও একটি সভার আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়েও স্থাপিত হয়েছে ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’। বুক শেলফসহ শেখ রাসেলের ওপর লেখা বিভিন্ন লেখকের বই শোভা পাচ্ছে সেখানে। শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছামতো বুক শেলফ থেকে বই নিয়ে পড়ছে। তারা ছবিগুলো দেখে ও ছবির নিচে বর্ণনা পড়ে শেখ রাসেলের বিষয়ে জানতে পারছে। একই সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা বিষয় জানার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বামনডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আফিফা জাহীন জেসি। সে জাগো নিউজকে জানায়, শেখ রাসেল বুক কর্নারে থাকা বই পড়ে শেখ রাসেলের বিষয়ে সে অনেক কিছু জেনেছে।

কী কী জেনেছ জানতে চাইলে সে বলে, শেখ রাসেলের বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা। ১৯৭১ সালে রাসেল তার মা ও দুই বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডি ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে বন্দিজীবন কাটিয়েছে। তার বাবা বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার বড় দুই ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। তখন শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

কুমিরগাড়ী মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সৈকত হোসেন জানায়, তাদের স্কুলে স্থাপিত শেখ রাসেল বুক কর্নার থেকে বই পড়ে এবং ছবি দেখে সে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে।



ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিন খাতুন। সে জাগো নিউজকে বলে, ‘আমাদের স্কুলে শেখ রাসেল বুক কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে বই পড়ে ও ছবি দেখে শেখ রাসেলের বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।’

কুমিরগাড়ী মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’ থেকে বই নিয়ে শিশুরা পড়ে। তাদের এ অভ্যাসের কারণে তারা এখন অন্যান্য শিশুতোষ বই পড়তেও আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কথা হয় ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শেখ রাসেলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ স্থাপন করা হয়েছে ‘শেখ রাসেল বুক কর্নার’। শিশুদের অন্যান্য গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি শেখ রাসেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আদর্শ শিশু ও নাগরিক হতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



শোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ লাল কর্মকার বলেন, প্রাণের টানে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা থেকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে এটি করেছি। লাইব্রেরিতে শেখ রাসেলকে নিয়ে লেখা শিশুতোষ বই রয়েছে।

পুরানচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জেোগ নিউজকে বলেন, তার স্কুলে শেখ রাসেল বুক কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। কিছুটা সময় যেন শিক্ষার্থীরা বইয়ের সঙ্গে কাটায় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ হোসেন বলেন, শিশু-কিশোর-কিশোরীদের কাছে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ রাসেলের নির্মলতা, তার দুরন্ত এবং নির্ভীক শৈশবের গল্প পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের এই শিশু-কিশোররা বিজয়ের গৌরবগাথা ইতিহাস থেকে সমৃদ্ধ হবে।

সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, সরকারি নির্দেশনাটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি খুশি। প্রাথমিক শিক্ষকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শেখ রাসেল বুক কর্নারের প্রতি শিশুদের ব্যাপক কৌতূহল এবং ভালোবাসা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছবি এবং শিশুতোষ বইয়ের মাধ্যমে তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ রাসেল এবং তাদের পরিবারের সবার ত্যাগ-আদর্শের কথা জনতে পারছে। এটা শিশু শিক্ষার্থীর মানসপটে মুদ্রিত হয়ে থাকছে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।