প্রকল্প নিয়ে দুই ইউপি সদস্যের দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে তরুণ খুন
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুই ইউপি সদস্যের দ্বন্দ্বের জের ধরে ছুরিকাঘাতে শাকিব (১৮) নামের এক তরুণ খুন হয়েছেন।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শাকিব উপজেলার খরনা ইউনিয়নের বড়তিতখুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার খরনা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসন ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য সেলিনা আকতার মুন্নি বীরগ্রাম দক্ষিণপাড়া গ্রামে রাস্তায় সিসি ঢালাই কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ পান। ওই কাজ নিয়ে নারী সদস্যের সঙ্গে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
২৪ অক্টোবর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কাজ শেষে বেশ কিছু বালু বেচে যাওয়ায় তা রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। কিন্তু দ্বন্দ্বের জের ধরে ওইদিন রাতে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানের সহযোগী নয়নসহ (২৭) বেশ কয়েকজন এসে বালুগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে ওই নারী সদস্যের ছেলে মিনহাজ (২৮) ও তার বন্ধু রাজমিস্ত্রি মো. শাকিবের সঙ্গে জিয়াউর এবং তার সহযোগী নয়নের তর্কবিতর্ক হয়।
এ ঘটনার জেরে ৩০ অক্টোবর রাতে বীরগ্রাম এলাকায় মিনহাজের বন্ধু শাকিবকে একা পেয়ে জিয়াউর রহমানের সহযোগী নয়নসহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা শাকিবকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর বিকেলে শাকিবের মা আছমা খাতুন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগী নয়নের মোবাইল নম্বরে বারবার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া গেছে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, নারী ও পুরুষ সদস্যদের মধ্যে প্রকল্পের কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে বালু নিয়ে যাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় মারধর আইনে মামলা হয়েছিল। ওই তরুণ মারা যাওয়ায় এখন তা হত্যা মামলায় পরিণত হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এসজে/এমএস