৩০ বছর ধরে ঘটি গরম বিক্রি করে সংসার চালান বিল্লাল মিয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ এএম, ০৯ নভেম্বর ২০২২
ছবি: জাগো নিউজ

ফরিদপুরের মধুখালীর বিল্লাল মিয়া। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঘটি গরম পেশায় জড়িত। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অটোভ্যান চালান। বিকেল থেকে রাত অবধি ঘটি গরম (চিড়া-চানাচুর ভাজা) বিক্রি করেন। এভাবে তিনি প্রায় আড়াই যুগ ধরে ঘটি গরম বিক্রি করে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা।

পায়ে ঘুঘড়ি, গায়ে রঙিন জামা-কাপড়, মাথায় বাহারি টুপি ও সাইনবোর্ড যা দেখে ক্রেতারা আগ্রহী হন। এগিয়ে আসেন, আর কিনে খান গরম গরম ঘটি গরম। দিনরাত শ্রম দিয়ে অটোভ্যান চালিয়ে আর ঘটি গরম বিক্রি করে প্রতিদিন তার আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের ভাটিকান্দি-মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মিয়া (৪৮)। এই আয় দিয়ে তিনি সংসার চালানোর পাশাপাশি দুটি মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও এক সন্তানের সংসার মোটামুটি ভালোই চলছে। প্রতিদিন সাধারণত দুপুরের পর বিভিন্ন স্থান ও হাটবাজারে ঘটি গরম বিক্রি করেন। তবে জেলার বিভিন্ন স্থানে মেলা, নৌকা বাইচ, ঘোড় দৌড়সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেই তিনি ছুটে যান। কারণ এসব স্থানে বেচা বিক্রি বেশ ভালো হয়।

jagonews24

মহম্মদপুর-বোয়ালমারী এলাকার শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলায় দেখা হয় ঘটি গরম বিক্রেতা বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে। বিল্লাল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমি আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে এই ঘটি গরম তৈরির কাজ শিখি। একই উপজেলার কামারখালী এলাকার আতিয়ার মোল্লা আমার উস্তাদ। তার কাছ থেকেই আমার শেখা ও এ পেশার শুরু।

তিনি বলেন, সকালে অটোভ্যান চালাই। আমার মূল পেশা ঘটি গরম নিয়ে। স্ত্রী রুপালি বেগমের সহায়তায় তৈরি করা ঘটি গরম (ভাজা চিড়া আর চানাচুর) বেরিয়ে পড়ি। টিনের ড্রামের ভেতর টিনের কৌটায় কাঠের গুড়ি/কয়লার আগুনের তাপে চিড়া আর চানাচুর বসিয়ে দেই। এতে সারাক্ষণ গরম থাকে চিড়া-চানাচুর। এটাকেই বলা হয় ঘটি গরম।

বিল্লাল মিয়া বলেন, অন্য সময়ের থেকে শীতের দিনে বেচাকেনা বেশি হয়। শীতের সন্ধ্যায় ঘটি গরমের ভালো চাহিদা। রাত ৮টার মধ্যে সব চিড়া-চানাচুর শেষ হয়ে যায়। এখন সবকিছুর দাম বৃদ্ধি। আগে একটু বেশি লাভ হতো। এখন প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি করলে ৩০০ টাকা লাভ হয়।

jagonews24

‌‘সন্ধ্যা থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এই ঘটি গরম, গরম গরম ঘটি গরম বলে হাঁক ছেড়ে বিক্রি করা হয়। সব বয়সী মানুষই এই চানাচুর আর চিড়া কিনে খান। শীতের কয়েক মাস এই ব্যবসা ভালোই হয়। এ পেশায় থেকে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এক ছেলে ক্লাস অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। করোনার পর থেকে আর স্কুলে যায় না।’

ঘটি গরম ক্রেতা সনৎ চক্রবর্তী, লিয়াকত হোসেন, হাসমতসহ অন্যরা জাগো নিউজকে জানান, যেকোনো মেলা ও অনুষ্ঠানে ঘটি গরম বিক্রেতা বিল্লাল মিয়াকে দেখা যায়। আর দেখা হলেই বিল্লালের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে গরম চিড়া আর চানাচুর কিনে খান। ঘটি গরম সুস্বাদু ও লোভনীয়।

গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, রেল স্টেশন, ট্রেনের কামরা, রাস্তার ফুটপাথ, ভিড়, মেলা, যে কোনো জায়গাতেই মনকে ফ্রেশ করে দিতে পারে এই খাবার। এসব স্থানেই দেখা যায় ঘটি গরম বিক্রেতা বিল্লাল মিয়াকে। তিনি দীর্ঘ প্রায় আড়াই যুগ ধরে এ পেশায় জড়িত। অনেকের কাছে সে পরিচিত মুখ।

এন কে বি নয়ন/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।