৩৫০ টাকায় শুরু, তিন বছরে লাখোপতি জাকিয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২২

নিজের জমানো ৩৫০ টাকায় ৩৫টি মুরগির বাচ্চা কিনে লালন-পালন শুরু করেন জাকিয়া সুলতানা (২৬)। কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পদে পদে ছিল লোকসানের ঝুঁকি। তবে ইউটিউব দেখে কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মনোবলের ওপর ভর করে সব পাল্টে দিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন বছরের মাথায় লাখোপতি বনে গেছেন এই উদ্যোক্তা।

জাকিয়া সুলতানা বগুড়ার ধুনট নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘এস এইচ সানজিত এগ্রোফার্ম’। বর্তমানে তিনি বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের এমবিএ শিক্ষার্থী।

জাকিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলী আকন্দ স্থানীয় একটি বেসরকারি মাদরাসার কর্মচারী। মা মেরিনা বেগম গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জাকিয়া সবার বড়।

kham3

সহায়-সম্বল বলতে পৌনে দুই বিঘা জমি। সংসারে অভাব। আর্থিক সংকটে অষ্টম শ্রেণিতে তার লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়। তখন থেকে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ জুগিয়েছেন জাকিয়া।

মুরগি পালনের মাধ্যমে জাকিয়ার শুরু। তিন বছরে বেড়েছে খামারের পরিধি। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন কেঁচো সার তৈরির কাজে। করেন গাভি পালনও। এছাড়া গাভির কৃত্রিম প্রজননের (এআই কর্মী) কাজটিও তিনি করেন। এই চারের জোরে হয়েছেন লাখোপতি।

উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনা মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ঘরে বসে সময় কাটছিল না তার। তখন মাথায় চিন্তা আসে কিছু একটা করবেন। ইউটিউব দেখে সিন্ধান্ত নেন মুরগি পালনের।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ মাত্র ৩৫০ টাকায় ৩৫টি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা কেনেন। ২৪ ঘণ্টার মাথায় তিনটি বাচ্চা মারা যায়। এতে তার কিছুটা মন খারাপ হলেও দমে যাননি। ৩২টি মুরগি পালন করে লাভ হয় এক হাজার ২০০ টাকা। এরপর যুব উন্নয়ন থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেখান থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই ঋণের টাকা দিয়ে ২০০ মুরগির বাচ্চা কিনে জায়গা ভাড়া নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন জাকিয়া সুলতানা।

kham3

দ্বিতীয় দফায় মুরগি পালনে লাভ হয় ১৪ হাজার টাকা। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাড়ে খামারের পরিসর। তিন বছরে মুরগির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় তিন হাজার। পাশাপাশি আছে প্রায় দুই লাখ টাকা দামের পাঁচটি গরু।

কেঁচো সার তৈরির কারখানা করেছেন জাকিয়া। এর পাশাপাশি কৃত্রিম প্রজননের কাজও করেন। সবকিছু থেকে তার মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এই আয়ে আড়াই লাখ টাকায় কিনেছেন তিন শতক জমি। সেখানে গবাদিপশুর খামার গড়ার কাজ করছেন।

জাকিয়া সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি যখন মুরগি পালন শুরু করি তখন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ইউটিউব দেখে পরিশ্রম আর মনোবলকে বড় পুঁজি করে এগিয়েছি। একটাই চিন্তা ছিল মাথায়, টাকা যেন পানিতে না যায়। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমানো ছাড়া পুরোটা সময় দিয়েছি খামারে। যার ফল আমি হাতে হাতে পেয়েছি।’

ধুনট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সরওয়ারদ্দিন বলেন, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়ার ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে। এবার যুব দিবসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাকে ঋণ সহায়তার পাশাপাশি সফলতা অর্জনে সব রকম পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।