দিনাজপুর সদর

উপহারের ৬১ ঘরের ৪৪টিতেই তালা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২২

দিনাজপুরের সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শিবপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর করা হয়েছে ৬১টি। বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে ঘরগুলো। কিন্তু উঠেছে মাত্র ১৭টি পরিবার। বাকিরা ঘর বুঝে নিয়েই নিখোঁজ। ঘরগুলোতে এখন তালা ঝুলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাস্তাঘাট, চিকিৎসা আর কর্মসংস্থানের দোহাই দিয়ে কেউ আছেন শহরে নিজের বাড়িতে আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে থাকছেন ভাড়া বাড়িতে। অনেকেই ঘরে তালা ঝুলিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন রাজধানী ঢাকায়।

সরেজমিন দেখা যায়, দক্ষিণ শিবপুরের নদীর আত্রাই নদীর পূর্বপাড়ে উপহারের ঘর করা হয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে ৪৪টি ঘরে কেউ থাকেন না। ঘরগুলোর বারান্দা আবর্জনায় ভরা। ঘরের সামনে কিছু কিছু জায়গায় ঘাস গজে উঠেছে।

কথা হয় দক্ষিণ শিবপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যেদিন ঘরগুলো বুঝে দেওয়া হয়, সেদিন সবাই এসেছিলেন। এরপর চলে গেছেন। এখানে ৬১টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও ১৭টি পরিবার বসবাস করে। বাকিরা থাকেন না।’

আশ্রয়ণে সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখান থেকে শহরে যেতে আসতে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে। আবার চিরিরবন্দর উপজেলা শহরে যেতেও ১০০ টাকা লাগে। রাস্তা নেই। আবার রাতে যাতাযাতে সমস্যা।’

ঘর পেয়েও থাকেন না দবিরুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শহরের কালিতলায় তার বাড়ি রয়েছে। তারপরও তিনি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। মাঝে মাঝে আসেন। তবে এখানে থাকেন না।

দবিরুল ইসলাম জানান, তমা নামের একজন নারী ৫০ নম্বর ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু তিনি ঢাকায় থাকেন। ঘরগুলো যাদের প্রয়োজন তারা পেলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রতন নামের আরেকজন বলেন, ‘৫ নম্বর ঘরের মালিক গাবুরা গ্রামের শাবলু। তিনি ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন শুনেছি। কে কিনেছে তা জানি না।’

মাহমুদা বেগম নামের একজন বলেন, ‘রাস্তা নেই। মানুষের বাগান, বাড়ি ও ক্ষেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়। সন্ধ্যা হলেই জায়গাগুলো দিয়ে চলাচল করা যায় না। মানুষ মারা গেলে কবর দেওয়ার উপায় নেই। কিছুদিন আগে এই আশ্রয়ণের একজন মারা গেলে তাকে শহরে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শেখ জাহাঙ্গীর গোরস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমিজ আলম জাগো নিউজকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। এখনো এক সপ্তাহ হয়নি। তাই অনেক বিষয়ে জানি না। তবে বরাদ্দ পাওয়ার পরও কেউ যদি উপহারের ঘরে না থাকেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।