কক্সবাজার

আইনজীবীদের আদালত বর্জনে দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২২

অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্ব্যবহার, কুরুচিপূর্ণ আচরণের অভিযোগ এনে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

রোববার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে জেলা জজ আদালতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেয়নি কোনো আইনজীবী। এতে আদালতে পূর্ব নির্ধারিত তারিখে থাকা মামলাগুলোর বাদী-বিবাদীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। কিন্তু অন্য আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলে।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুসারে আদালতে এসেছিলেন মহেশখালীর ধলঘাটার শাহেদুল ইসলাম মনির। কিন্তু জেলা জজের আদালতের কার্যক্রমে আইনজীবী না থাকায় তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়ে যান। শাহেদুল বলেন, ‘ধলঘাটা থেকে কক্সবাজার সদরে যেকে মাতারবাড়ি হয়ে চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামুসহ কয়েকটি উপজেলা পাড়ি দিতে হয়েছে। কিন্তু আমার মামলাটি আবার কত মাস পর তারিখ পড়ে তার কোনো ইয়াত্তা নেই। এটি পারিবারিকভাবে খুবই ভোগান্তিতে ফেলেছে।’

শুধু তিনি নন, তার মতো কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও টেকনাফ থেকে আসা অনেক বিচারপ্রার্থীরা বেকায়দায় পড়েন। হঠাৎ আদালত বর্জনের ঘটনায় বিচারপ্রার্থীরা এ দুর্ভোগে পড়েন বলে জানান তারা।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল আনোয়ার বলেন, চলতি বছরের ১৪ জুলাই জেলা লিগ্যাল এইডের বৈঠকে জেলার সমস্ত আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। সেদিন আমরা এর প্রতিবাদ করে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে বললেও তিনি শোনেননি। তার এমন আচরণের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে আইন মন্ত্রণালয়, প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এমন দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি তার নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই বাধ্য হয়েই আমরা তার আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি মিস মামলার পরবর্তী তারিখ আদালতে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তিনি তা করেন না। তিনি ওইসব মামলা খাস কামরায় শুনানি করেন, জামিনও দেন। এছাড়া আদালতে দেওয়া আদেশে স্বাক্ষর না করে তা খাস কামরায় রেখে দিয়ে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ আছে। এসব কারণে জেলার সমস্ত আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত মতে তার আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেয়া হয়। তাকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

এদিকে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আহ্বানে তার সঙ্গে দেখা করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। এ সময় আদালত বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করেন তারা। সব শুনে নিজের আচরণ ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জেলা ও দায়রা জজ বর্জন কর্মসূচি তুলে নিতে আহ্বান জানান।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইকবালুর রশীদ আমিন সোহেল। তিনি বলেন, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় হওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হলে আরেকটি সাধারণ সভা ছাড়া সম্ভব নয়। ফলে প্রত্যাহার হয়নি বর্জন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, বিচারকদের সঙ্গে আইনজীবী নেতাদের একটি বৈঠক হয়েছে সেটা জানি। কিন্তু বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, বিচারক আদালতে এসে দাপ্তরিক কাজ করেছেন- এজলাসেও বসেছিলেন। তবে, সেখানে বিচারিক কাজ চলেছে কি-না আমি এখনো জানি না।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।