হামলা-ভাঙচুরে ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ পণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ককটেল নিক্ষেপ আর মঞ্চ ভাঙচুর করায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের আয়োজন করে বিএনপির ফরিদপুর মহানগর শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে যথাক্রমে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে ছোট আকারের একটি মঞ্চ করা হয়। বিকেল পৌনে চারটার দিকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা তখনো ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাননি। ওই সময় মঞ্চে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বসা ছিলেন।

বিকেল চারটার দিকে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন তরুণ-যুবক লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে সভাস্থলে হামলা করেন। হামলাকারীরা ব্যানার ছিনিয়ে নেন ও চেয়ার ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এসময় পুলিশ সিজান নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তাকে আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঘটনাস্থলে আসেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত আট থেকে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ রিতু, কামাল, রাজীব ও সিজানসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শামা ওবায়েদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে বিএনপির ১১ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তার প্রতিবাদে গত চারদিন আগে আমরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছি। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের সমাবেশে হামলা-ভাঙচুর চালায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের তত্বাবধানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এ হামলা করেছে। আমরা দেখেছি তারা বিভিন্ন জায়গায় ককটেল রেখে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ তারা ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে ককটেল ফাটিয়ে আমাদের লোকদের ধরপাকড় করেছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান জাগো নিউজকে বলেন, হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইসতিয়াক আরিফ জাগো নিউজকে বলেন, এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং কেউ জড়িত না। বিএনপির নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা নিজেরা ঝামেলা করে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জাগো নিউজকে বলেন, ফরিদপুর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত। এক গ্রুপ শামা ওবায়েদ ও আরেক গ্রুপ নায়াব ইউসুফের। তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ থেকে সভাস্থলে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।