চুরি-ডাকাতি আতঙ্ক

ঝিকরগাছায় রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন শতাধিক যুবক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

যশোরের ঝিকরগাছায় রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন শতাধিক যুবক। চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ঠেকাতে স্বেচ্ছায় তারা পাহারার দিচ্ছেন। এতে করে গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে চুরি-ডাকাতি বেড়ে যায়। এসব অপরাধ ঠেকাতে গ্রামের যুবকরা একত্রিত হয়ে পাহারার দায়িত্ব নিয়েছেন। ‘আপনি ঘুমান, আমার গ্রাম পাহারা আমি দেব’ স্লোগানে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

তারা জানান, গত এক মাসে মোটরসাইকেল, দোকান ও বাসা-বাড়ির মালামাল, অটোরিকশা, শ্যালো মেশিন, স্বর্ণালঙ্কার, গরুচুরিসহ অর্ধশতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এতে দিন দিন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রতি রাতে চুরি-ডাকাতির মত ঘটনা ঘটছে।

উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইকরামুল ইসলামের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। সেকেন্দারকাটির খোকনের বাড়ির ছাদের সিঁড়ি ঘর দিয়ে ঢুকে ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা ও গহনা চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদারকি ও টহল বাড়িয়ে দিলে এমন চুরির ঘটনা কমে আসবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ মূল্যবান সম্পদ ও আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়বে।

গ্রাম পাহারা দেওয়া যুবক হুমায়ুন কবীর জিকো জানান, প্রতিদিন চোরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। যানমালের রক্ষায় নিজেরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি।

Benapole

সোলাইমান আরেক যুবক বলেন, প্রতি রাতে কোনো না কোনো বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল, সোনা, টাকা ও গরু চুরি নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের পর দিন অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের লোকজন যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে সেজন্য আমরা শতাধিক যুবক পাহারা দিচ্ছি।

কবির নামের গ্রাম পাহারা দেওয়া এক যুবক বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ করেও এখনো পর্যন্ত চুরির মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ। বাধ্য হয়ে চুরি ঠেকাতে নিজেরাই পাহারা দিচ্ছি নিজেদের গ্রাম।

স্থানীয় যুবক গাজী জয়নাল আবেদীন জানান, গ্রামে চুরিরোধে রাত জেগে গ্রামে পাহারা দেওয়ার পর আজ ৪-৫ দিন কোনো বাড়িতে চুরি হয়নি। গ্রামের সবাইকে নিয়ে এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে পর্যায়ক্রমে গ্রামে পাহারা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় শংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র চ্যাটার্জি বলেন, চুরি বন্ধে গ্রামের ছেলেরা যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমি খুশি। আমি গ্রামের মধ্যে ও আশপাশের বিভিন্ন মসজিদে চুরির ব্যাপারে সবাইকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালাতে বলেছি। যে সব বাড়িতে চুরি হয়েছে সে ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা করি।

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত বলেন, তদন্তের ভার সাব-ইন্সপেক্টর স্বপনকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো.জামাল হোসেন/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।