বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে এ হামলা ঘটে।

হামলায় সরকারি শাহ সুলতান কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান এবং শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সাব্বিরসহ সাত-আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা নবগঠিত জেলা কমিটির নেতাকর্মীদের ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমানের অবস্থা গুরুতর। তাকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সাব্বিরকে বগুড়া মোহম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির পক্ষে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ছাত্রলীগের জেলা কমিটির নেতারা ওই হামলার জন্য কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তবে পদবঞ্চিত নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে নবগঠিত কমিটির নেতারা এখনো ছাত্রলীগের জেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি।

ছাত্রলীগের নবগঠিত বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সজীব সাহা জাগো নিউজকে বলেন, নেতাকর্মীদের নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য শনিবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনে যাই। নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে ভেতরে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের সভাপতি তৌহিদুর রহমান এবং ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। তারা অধ্যক্ষের বাসভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে আমাদের সাত-আট নেতাকর্মী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে মাহফুজার রহমান বলেন, ‘রাতে ছাত্রদল ও শিবির কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকেছে এমন খবরে আমরা মিছিল নিয়ে কলেজে যাই। অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে যাওয়ার পরই আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় সম্মিলিতভাবে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পালানোর সময় পড়ে গিয়ে তাদের কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহজাহান আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাসভবনের বাইরে বহিরাগতরা এসে গোলমাল করেছে বলে খবর পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দিই।

জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজার রহমান বলেন, আমরা বিএনপি জামাতের নাশকতা এবং ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের ক্যাম্পাস দখল করার খবরে কলেজে গেলে নবগঠিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমার তা প্রতিহত করি। হামলাকারীদের হাতে নানা ধরনের অস্ত্র ছিল। আমাদের ওপর ২ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলেজে পুলিশ পাঠানো হয়। এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে অন্য নেতাকর্মীদেরকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে হামলা নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।