ছুরিকাঘাতে ইন্টার্ন চিকিৎসককে হত্যা

ছয় দাবিতে শজিমেক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২
সড়ক অবরোধ করে ছয় দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মেহেরাজ হোসেন ফাহিম হত্যার বিচারসহ ছয় দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা৷

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে শজিমেক হাসপাতালের ২ নম্বর গেটের বগুড়া-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করেন তারা।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালের এক নম্বর গেট দিয়ে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সড়কে নেমে আসেন তারা।

ছুরিকাঘাতে ইন্টার্ন চিকিৎসককে হত্যা, ছয় দাবিতে শজিমেক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের ছয় দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন সব অনিবন্ধিত দোকান উৎখাত ও দোকানিদের ট্রেড লাইসেন্স চেক করাসহ পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর ব্যবসার অনুমতি দিতে হবে৷ ক্যাম্পাসের দুই নম্বর গেট সংলগ্ন নতুন রাস্তার মোড়, ছাত্রী হোস্টেলের সামনে, ফিরিঙ্গির মোড়, ভার্সেটাইল মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। শজিমেক ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও এন্ট্রি পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা আনসার মোতায়েন করতে হবে।

দুই নম্বর গেট সংলগ্ন নতুন রাস্তার মোড়ে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রত্যেক অন্ধকার পয়েন্ট আলোকিত করতে হবে। দ্রুততম সময়ে হত্যাকারী শাকিলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দেন তারা।

ছুরিকাঘাতে ইন্টার্ন চিকিৎসককে হত্যা, ছয় দাবিতে শজিমেক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরাফত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এরই মধ্যে সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তারা জেলা কারাগারে আছেন। আইনগতভাবে তাদের শাস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সব দাবি কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাস্তবায়নে পুলিশ কাজ করবে।

২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ইন্টার্ন চিকিৎসক ফাহিম বন্ধুদের সঙ্গে শজিমেক হাসপাতালের ২ নম্বর গেটে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তারা ফরিদ ব্যাপারী ও তার ছেলে শাকিল হোসেনের দোকানে ঝালমুড়ি খেতে যান। সেখানে ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে বাবা-ছেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডতায় জড়িয়ে পড়েন ফাহিম। ওই সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল তার হাতে থাকা পেঁয়াজ কাটার ছুরি দিয়ে ফাহিমের পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে শজিমেকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ৪ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ফাহিমের বাবা নূর মোহাম্মাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।