এইদিনে লঞ্চযোগে ভোলা ছেড়ে যায় হানাদার বাহিনী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

আজ ভোলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাক-হানাদার মুক্ত হয়েছিল দ্বীপজেলা ভোলা। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ভোলার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে লঞ্চযোগে পালিয়ে যায়। আর ভোলা হয় পাক-হানাদার মুক্ত।

মজার ব্যাপার হলো ভোলা থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই লঞ্চটি চাঁদপুরে মিত্র বাহিনীর হামালায় ডুবে যায়। এতে মারা যায় পাক বাহিনী। আর এই খবর ভোলায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ আনন্দ মিছিল করেন। বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠে সবাই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাদী মাসুদ জানান, ১৯৭১ সালে ভোলার সরকারি স্কুল মাঠ, বাংলা স্কুল, টাউন স্কুল ও ভোলা কলেজের মাঠের কিছু অংশে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাক-হানাদারবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় ভোলার ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলাবাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশন বাজারে।

এইদিনে লঞ্চযোগে ভোলা ছেড়ে যায় হানাদার বাহিনী

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভোলা ওয়াপদা ভবনে ক্যাম্প করে অবস্থান নেয় পাক বাহিনী। ওই ভবনের দুইটি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে নিরীহ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। ওয়াপদা ভবনের পাশেই রয়েছে বধ্যভূমি যেখানে শতশত মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে হত্যা করে তেঁতুলিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হতো তেঁতুলিয়ার পানি।

তারা আরও জানান, ১০ ডিসেম্বর সকালে পাকবাহিনী ভোলা লঞ্চঘাট হয়ে কার্গো লঞ্চ করে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা চারদিকে গুলি বর্ষণ করতে করতে যায়। পরে অবশ্য চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় লঞ্চটি ডুবে গেলে তাদের সব সদস্য নিহত হয়।

সকালে পাক বাহিনীর পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ ভোলার রাজপথে নেমে আসে ‘জয় বাংলা’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা’, ‘শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’- স্লোগানে মুখরিত হয় চারদিক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম হাবিবুর রহমান জানান, ৬ মে পাক-হানাদার বাহিনী ভোলায় প্রবেশ করে। এরপর তারা ভোলা ওপদায় ভবনে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের ধরে নিয়ে ভয়ংকর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করো। ওয়াপদা ভবনের পেছনে গণকবর দেওয়া হয়। সেটি এখন বধ্যভূমি। এছাড়াও তারা সেখানে ভয়ংকর নির্যাতন করে ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যা করে তেঁতুলিয়া নদীতে ফেলে দিতো। বিভিন্ন বয়সী নারীদের পাক-হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে ওপদায় নির্যাতন চালাতো।

এইদিনে লঞ্চযোগে ভোলা ছেড়ে যায় হানাদার বাহিনী

তিনি আরও জানান, তিনি তখন ঢাকা থেকে প্রকাশিত পূর্ব দেশ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করতেন। জীবন বাজি রেখে ওপদায় নির্যাতনের ছবিও তুলে ছিলেন।

ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ১০ ডিসেম্বর ভোরের দিকে পাক-হানাদার বাহিনী গুলি বর্ষণ করতে করতে লঞ্চযোগে ভোলা থেকে পালিয়ে যায়। পরে চাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় লঞ্চটি ডুবে গিয়ে নিহত হয় পাক-হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা। খবরটি ভোলায় ছড়িয়ে পরলে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ হাজার হাজার মানুষ। আর ‘জয় বাংলা’ ‘তোমার নেতা, আমার নেতা’ ‘শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ -স্লোগান দিতে থাকে।

তিনি আরও জানান, ১০ ডিসেম্বর ভোলা মুক্ত দিবস উপলক্ষে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা করে থাকি।

জুয়েল সাহা বিকাশ/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।