চাহিদা বেড়েছে রাসেলের মেশিনে বানানো শরবত-পিঠার
অনেকটা হাতের স্পর্শ ছাড়াই তৈরি হয় শরবত-পিঠাসহ ১০ রকমের আইটেম। বিষয়টি শুনে একটু অবাক লাগলেও এমনই এক মেশিন বানিয়েছেন আক্তারুজ্জামান রাসেল।
নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার এলাকার ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনে মেশিনের মাধ্যমে শরবত ও পিঠা বানিয়ে বিক্রি করছেন তিনি। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা বেড়েছে তার মেশিনে বানানো পিঠা ও শরবতের।

সরেজমিনে দেখা যায়, আক্তারুজ্জামান রাসেলের দোকানের চারপাশে লোকজনের ভিড় জমেছে। সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে তার মেশিনটি দেখছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আসা যাওয়ার পথে বিষয়টি দেখে ভিড় করছে। কেউ কেউ মেশিন দেখে শরবত খাওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আবার কেউ পিঠা কিনে খাচ্ছেন।
রাসেলের এই মেশিনটি প্রায় ২০ ফুট লম্বা। মেশিনটির সবার ওপরে রয়েছে পানি ধরে রাখার পাত্র। এরপর ফিল্টার। যেখান থেকে পানি ফিল্টারের পাশাপাশি শীতল হবে। তবে পানির চাহিদা বেড়ে গেলে তেমন শীতল হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে পানি আরও শীতল হওয়ার জন্য বরফের একটি পাত্র রাখা হয়েছে। এরপর সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি এসে লেবুর রস ও চিনির সঙ্গে মিশ্রিত হবে। তারপর শরবতের গ্লাসে এসে পড়বে।

একইভাবে আরেকটি মেশিনের মাধ্যমে হাতের স্পর্শ ছাড়াই পিঠার খামির তৈরি হবে। এরপর সেখান থেকে সুইচের মাধ্যমে খামির তাওয়ায় গিয়ে পড়বে এবং গ্যাসের চুলার মাধ্যমে চিতই পিঠা তৈরি হবে।
এই মেশিন বানানোর ধারণা প্রসঙ্গে রাসেল জাগো নিউজকে বলেন, একবার রমজান মাসে ইফতারের সময় শরবত বিক্রি করছিলাম। তখন লক্ষ্য করলাম ইফতারের সময় শরবতের এত চাহিদা থাকে, যা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। তখনই চিন্তা করতে থাকি হাতের স্পর্শ ছাড়া কীভাবে তাড়াতাড়ি শরবত বানানো যায়। এরপর ধীরে ধীরে এই মেশিন তৈরি করি। একইভাবে পিঠাও বানানোর চিন্তা করি। এভাবে চা-কফিসহ ১০ রকমের আইটেম তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এখনও মাঝে মাঝে হাতের স্পর্শের প্রয়োজন হয়। চেষ্টা করছি যেন একেবারে হাতে না ধরেই এসব আইটেমগুলো তৈরি করা যায়।
পাশের দোকানদার জসিম বলেন, সারাক্ষণ সে এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তার তেমন কোনো চাহিদা নেই। এখানেই সে ঘুমায়। মাঝে মাঝে গভীর রাতেও এসে দেখি সে এই মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছে, কীভাবে কী করা যায়। এই মেশিন দেখে সবসময়ই লোকজনের ভিড় জমে। মানুষজন আসা যাওয়ার পথে এই মেশিনের দিকেই তাকিয়ে থাকেন।
আকাশ নামে এক কলেজছাত্র বলেন, হাতের স্পর্শ ছাড়াই শরবত ও পিঠা বানানোর বিষয়টি দেখে আমার কাছে ইউনিক লেগেছে। এই প্রথম দেখলাম হাতের স্পর্শ ছাড়া এসব বানানো হচ্ছে। শরবত ও পিঠা দুটিই আমি খেয়েছি। আমার কাছে ভালো লেগেছে। তার জন্য শুভ কামনা রইলো।
সোহেল নামে এক যুবক বলেন, অনেক দূর থেকে এসে বিষয়টি দেখে অবাক হলাম। এই প্রথম দেখলাম হাত দিয়ে না ধরেই পিঠা বানাতে। আমি শরবত ও পিঠা দুটোই খেয়ে দেখেছি, ভালো লেগেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার মতো এরকম অনেকেই দূর থেকে এসে দেখে অবাক হয়ে যায়। দোকানদার বলছেন, তিনি নাকি এরকম হাতের স্পর্শ ছাড়া চা-কফিও বানাতে পারেন। আমার কাছে দেখে মনে হয়েছে তার খাবার যথাযথ স্বাস্থ্যসম্মত।
শিমু বেগম নামে এক নারী জাগো নিউজকে বলেন, আমি তাকে ছোট থেকেই দেখে আসছি। প্রথমে সে চা বিক্রি করতো। এখন সে কারও কোনোরকম সহযোগিতা ছাড়া হাতের স্পর্শ ছাড়া শরবত ও পিঠা বানানোর মেশিন বানিয়েছে। এরকম হাতের ছোঁয়া ছাড়া সে নাকি চা বানানোরও চেষ্টা করছে। আমি খেয়ে দেখেছি ভালোই লেগেছে। পরিবেশটাও সুন্দর। দেখতেও বিস্ময় লাগে।

তিনি বলেন, সে কারও বুদ্ধি ছাড়াই নিজে থেকে এই মেশিন বানিয়েছে। তাকে সুযোগ দিলে হয়তো আরও আধুনিক কিছু বানাতে পারবে। সহযোগিতা করলে তার এই প্রতিভার আরও বিকাশ ঘটবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা দোকান মালিক সমিতি ও ফ্রেন্ডস মার্কেট বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ দিপু জাগো নিউজকে বলেন, রাসেল আমাদের মার্কেটের সামনে অনেক আগে থেকেই এগুলো বিক্রি করে আসছে। একসময় সে চা বিক্রি করতো। পরবর্তীকালে সে শিক্ষিত না হলেও সম্পূর্ণ নিজের মেধায় শরবত বানানোর মেশিন তৈরি করেছে। এতে আমরা আশ্চর্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, রাসেল নিজের দক্ষতায় একটি মেশিনের মধ্যে চা-পিঠাসহ প্রায় ১০ রকমের আইটেম তৈরি করছে। বিষয়টি আসলেই আশ্চর্যজনক। আমরা অত্যন্ত খুশি তার মেধা ও প্রতিভাকে স্বাগত জানাই। এভাবে যেন সে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/জিকেএস