স্কুল ভর্তির লটারি

তালিকায় তিন শিক্ষার্থীর নাম আসলো ২৭ বার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির লটারির ফলাফলের তালিকায় তিন শিক্ষার্থীর নাম ২৭ বার এসেছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, এসব ‘সিস্টেমে’ সমস্যার কারণে হয়নি। শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা একেকবার একেকভাবে একাধিক আবেদন করায় এমনটি হয়েছে।

জেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে লটারিতে বাছাই হওয়া শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা ঝুলানো হয়। এতে এক শিক্ষার্থীর নাম ১১ বার ও দুই শিক্ষার্থীর নাম আটবার প্রকাশিত হয়েছে।

অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে মর্নিং শিফটে ১৪১ ও ডে-শিফটে ৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন নেওয়া হয়। অনলাইনে শিক্ষার্থীরা আবেদন করার পর সোমবার লটারির মাধ্যমে বাছাই করা হয়।

ওইদিন বিকেলে স্কুলের গেটে লটারিতে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের তালিকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, আইমান হাসান তুরজয় নামে এক শিক্ষার্থীর নাম ১১ বার লটারিতে বাছাইয়ের তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাবা-মা ও মোবাইল নম্বর একই লেখা থাকলেও ইউজার আইডি নম্বর ভিন্ন ভিন্ন লেখা আছে। তালিকায় মর্নিং শিফট লিস্টে ২৯, ডে-শিফট লিস্টে ১১, ২৩, ২৪, ৫৮, ১০১, ১১০ এবং ওয়েটিং লিস্টে ৩২, ৩৩, ৪২ ও ৮৭ নম্বরে তুরজয়ের নাম এবং ছবি দেওয়া রয়েছে।

অন্যদিকে, আরও দুই শিক্ষার্থী মো. রাহাত খানের আটবার ও কাজী আহনাফ আতিফের নাম আটবার লটারিতে বাছাইয়ের তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় মর্নিং শিফট লিস্টে ২৫, ৪১, ৪৭, ৫৪ ও ৫৭ এবং ওয়েটিং লিস্টে ১৭, ৪৩ ও ৯৪ নম্বরে রাহাতের নাম এবং ছবি দেওয়া রয়েছে। এছাড়া কাজী আহনাফ আতিফের নাম মর্নিং শিফট লিস্টে ৯, ২২, ডে-শিফট লিস্টে ৯, ৪৪ ও ৫৩ এবং ওয়েটিং লিস্টে ১৫, ৩৩ ও ৯৯ দেওয়া রয়েছে।

এদিকে, একই শিক্ষার্থীর নাম লটারিতে ১১ ও আরও দুই শিক্ষার্থী নাম আটবার থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লটারিতে বাছাইয়ে বাদ পড়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

তারা অভিযোগ করে বলেন, এখানে নিশ্চিত অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। একই ইউজার আইডি, নাম, পরিচয় হলে বুঝতে পারতাম ভুলে এসেছে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী আলাদা ১১ বা আটটি ইউজার আইডি কীভাবে পেল?

সেকুল নামে এক অভিভাবক বলেন, আমি আমার ছেলের ভর্তির ফলাফল দেখতে এসেছিলাম। এসে দেখলাম, আমার ছেলেসহ শতশত ছেলের নাম লটারিতে বাদ পড়েছে। কিন্তু এমন কয়েকজন দেখলাম, যার নাম ১১ বা আটবার তালিকায় এসেছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আন্তরিকভাবে খুশি হবো।

আরেক অভিভাবক বলেন, একই ছেলের নাম ১১ বা আটবার তালিকায় স্থান পেয়ে গেলো। কিন্তু আরেকজন একবারও না। এখানে অন্য ছেলেরা সুযোগ পেতে পারতো।

এ বিষয়ে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন বলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো তা বলতে পারবো না। সম্পূর্ণ বিষয়টি অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে ভর্তির সুযোগ পাবে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, লটারি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছুই করা হয় না। অনলাইনে লটারির পুরো বিষয়টি ঢাকা থেকে দেখা হয়। সেখানেও বদল করার সুযোগ নেই। যেসব শিক্ষার্থীর নাম বারবার এসেছে, তারা একবারই ভর্তি হতে পারবে। বাকিগুলো ওয়েটিং লিস্ট থেকে পূর্ণ করা হবে।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম সিস্টেমে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি সিস্টেমের ত্রুটিতে হয়নি। বিভিন্ন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নাম ও রেজিস্ট্রেশন একেকবার একেক রকম লিখে আবেদন করার কারণে এ সমস্যা হয়েছে। যাদের নাম ভর্তি তালিকায় একাধিকবার এসেছে তাদের ভর্তি পর্যালোচনা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে হবে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি।

এর আগে শহরের গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলের লটারি ভর্তির তালিকায় এক শিক্ষার্থীর নাম আটবার ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান লটারিতে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।