রাজশাহীতে বিনামূল্যে বিতরণের ৪০ ভেড়ার মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২

রাজশাহীর বাগমারায় বিনামূল্যে বিতরণ করা অন্তত ৪০ ভেড়া মারা গেছে। একে একে ভেড়াগুলো মারা যাওয়ায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভেড়াগুলো পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। পুনরায় সুবিধাভোগীদের নতুন করে ভেড়া দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি বিভাগ সূত্র জানায়, সমতল ভূমিতে বসবাস করা অনগ্রসর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও মানোন্নয়নের জন্য ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ২৩২টি ভেড়া বিতরণ করা হয়। সম্প্রতি এসব ভেড়া একটার পর একটা অসুস্থ হতে শুরু করে।

সুবিধাভোগী পরিবারগুলো জানায়, ভেড়াগুলোর প্রথমে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। সেই সঙ্গে মুখ দিয়ে লালা ঝরা ও জ্বর দেখা দেয়। অসুস্থ ভেড়াগুলোর চিকিৎসাও করান তারা। তবে কিছু ভেড়া সুস্থ হলেও এ পর্যন্ত ৪০টি ভেড়া মারা গেছে।

উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কড়ি রায় বলেন, বাড়িতে নেওয়ার পর থেকে ভেড়া দুটি অসুস্থ। চিকিৎসা করেও বাঁচানো যায়নি। চারদিন পর একটি ভেড়া মারা গেছে। আরেকটি এখনো অসুস্থ।

সূত্র জানায়, জেনটেচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের ভেড়া সরবরাহের দায়িত্ব পায়। গত ১৯ নভেম্বর তারা ভেড়া হস্তান্তর করেন। ওই দিনই সেগুলো বিতরণ করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

রাজশাহীতে বিনামূল্যে বিতরণের ৪০ ভেড়ার মৃত্যু

বাগমারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, যখন ভেড়াগুলো পাই তখনই সেগুলো সুস্থ মনে হয়েছিল। কিন্তু বিতরণের পর থেকে সেগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। ২৩২টি ভেড়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪০টি মারা গেছে। অসুস্থ ভেড়াগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রাকে করে দূর থেকে আনার কারণে ভেড়াগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ জন্য সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, এক মাসের মধ্যে কোনো ভেড়া মারা গেলে তার দায়দায়িত্ব তারা বহন করবেন।

আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।