চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্বে ইউনিয়নে উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংকট না কাটলে বরাদ্দ হওয়া টাকা ও চাল সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। আর এতে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ জন সদস্য (মেম্বার) অনাস্থা দেন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দের কাছে লিখিতভাবে অনাস্থার চিঠি দেওয়া হয়। এতে চেয়ারম্যানের বেপরোয়া আচরণ এবং ৭ মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তখন বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, পার্বতীনগর ইউনিয়নে চলতি অর্থ-বছরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের ৮২ জন শ্রমিকের জন্য ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা, কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের ১ লাখ ৭৫ টাকা, টেস্ট রিলিফের (টিআর) ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের (কাবিখা) ৪ মেট্রিক টন চাল এবং শতকরা এক টাকাসহ (১%) কয়েকটি প্রকল্পের জন্য আরো কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এসব প্রকল্পের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সভা করে কার্যবিবরণীসহ তালিকা জমা দিতে হয়।
কিন্তু সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ায় পরিষদে কোনো সভা হচ্ছে না।

এতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ (পিআইও) সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সভার কার্যবিবরণী জমা দেওয়া হয়নি। তবে চেয়ারম্যান শুধু নিজের স্বাক্ষর করা তালিকা জমা দিতে গেলে তা নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সদস্য মাইন উদ্দিন ময়ুর, মহিন উদ্দিন ভূঁইয়া, গোলাম মাওলা, মো. ইব্রাহিম, ইব্রাহিম, মো. কামরুজ্জামান, জাবের হোসেন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য জোসনা বেগম, কল্পনা রানী নাথ ও ইসরাত জাহান অনাস্থা দিয়েছিলেন।

পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন ময়ুর বলেন, গেল ২৬ জানুয়ারি চেয়ারম্যান শপথ গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সভা করেননি। বরাদ্দ সঠিকভাবে বণ্টন করেন না। আমাদের নামে বিভিন্ন প্রকল্প দিয়ে ভূয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এসব অনিয়মের কারণে বাধ্য হয়েই আমরা অনাস্থা দিয়েছি।

পার্বতীনগর গ্রামের ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, পরিষদে গিয়ে পদে-পদে হয়রানি হতে হয়। এখানে কেউ কাউকে মানে না, শৃঙ্খলা নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের রেষারেষিতে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন শুনছি সরকারি সব বরাদ্দও ফেরত যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা চাওয়া-পাওয়া নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন। তাদের কারণেই এখন সরকারি অর্ধকোটি টাকার প্রকল্প ও কাজ ফেরত যাবে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। এমনিতেই এটি অনেকটা অবহেলিত এলাকা।

ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান বলেন, মেম্বাররা প্ররোচিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থার চিঠি দিয়েছেন। এ কারণে এলাকার উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার লোকজন বঞ্চিত হবে। আমি কোনো দোষ করিনি। শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোশারেফ হোসেন বলেন, পার্বতীনগরের চেয়ারম্যান নিজেই প্রকল্প ও শ্রমিক তালিকা জমা দিয়েছেন। পরিষদের সদস্যদের সই কার্যবিবরণী জমা দেওয়ার নিয়ম। এটি না থাকায় সেখানে কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাদের বিরোধ না মিটলে সব বরাদ্দ ও টাকা ফেরত যাবে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছি। সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এজন্য ওই ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

কাজল কায়েস/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।