সরিষার বাম্পার ফলনে বাগড়া দর্শনার্থীরা

মোবাশ্বির শ্রাবণ মোবাশ্বির শ্রাবণ , জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০২৩

মাঝ পৌষে বইছে শীতের হাওয়া। হিমেল বাতাসে সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে বিস্তৃত এলাকা। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে মধু আহরণে ছুটছে মৌমাছিরা। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সাবদি এলাকায় গেলে ক্ষেতের পর ক্ষেতজুড়ে সরিষা ফুলের এমনই নয়নাভিরাম দৃশ্যের দেখা মিলবে।

কৃষকরাও এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন। যদি প্রকৃতি বিরূপ আচরণ না করে তাহলে এবার তাদের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তবে তাদের এই বাম্পার ফলনে যেন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দর্শনার্থীরা।

সরিষা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে ক্ষেতের ভেতর ঢুকে পড়ছেন তারা। এতে দর্শনার্থীদের পায়ের তলে পিষে যাচ্ছে সরিষার ক্ষেত। তাই দিনভর ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে কৃষকদের।

jagonews24

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দরের সাবদি এলাকায় ক্ষেতের পর ক্ষেত হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। প্রকৃতি যেন হলুদ ফুলের বিছানা বিছিয়েছে মাটিতে। এই হলুদ ফুলের বিছানা দেখে যে কারও মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষেতের কাছে গিয়ে দেখা যায় প্রত্যেক ক্ষেতের পাশেই একজন করে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন।

কারণ জিজ্ঞেস করতেই তারা জানালেন, দর্শনার্থীরা ছবি তোলার নাম করে ক্ষেতের ভেতরে ঢুকে সরিষা নষ্ট করে ফেলেন। শহর লগোয়া এলাকা হওয়ায় প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী ক্ষেতে ভিড় করছেন।

সাবদি এলাকার কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, দর্শনার্থীদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গত বছর সরিষার চাষ বন্ধ রেখেছিলাম। এবছর কিছু জমিতে সরিষার চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু এবছরও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দর্শনার্থী। সরিষার গাছে ফুল আসার পর থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসছেন আর ছবি তুলতে গিয়ে ক্ষেত নষ্ট করে ফেলছেন। তাদের না করেও আটকে রাখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে প্রকৃতি আমাদের পক্ষে থাকলেও দর্শনার্থীরা আমাদের পক্ষে নেই। তাদের কারণে আমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

তোফাজ্জল হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, জমি বর্গা নিয়ে সরিষার চাষ করেছিলাম। আশা করা যাচ্ছে এবার বেশ ভালো লাভবান হতে পারবো। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেই ভালো ফলন হবে। কিন্তু মানুষের জন্য পারছি না। ক্ষেতের চারপাশে বেড়া দিয়েও সরিষা ক্ষেত রক্ষা করা যাচ্ছে না। বেড়া ডিঙিয়ে ক্ষেতের ভিতরে প্রবেশ করে ছবি তুলতে শুরু করে। না করলেও তারা শুনতে চায় না।

jagonews24

বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, গত বছর ৩৭০ হেক্টর জমিতে সরিষাচাষের লক্ষ্যামাত্রা ছিল। এ বছর তেল জাতীয় ফসল আবাদের নির্দেশনা ছিল। আমরা সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য গত বছরের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে এবছর ৪৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরি। এ বছর ৪৩৬ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করছি। আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি, যদি এরকম থাকে তাহলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

সরিষার ক্ষেতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে গিয়ে ফসল নষ্ট করাটা উচিত না। এ বিষয়ে সকলেরই খেয়াল রাখা উচিত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আব্দুল মাজেদ জাগো নিউজকে বলেন, তেল ফসল উৎপাদনের জন্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সরিষা থেকে সহজেই তেল বের করা যায়। সরিষার দামও আগের থেকে বেড়েছে। যার কারণে কৃষকরা যে জমিগুলো পতিত থাকতো সেখানে সরিষা চাষ করেছেন। আমরা গত বছরের টার্গেটের তুলনায় ১০ থেকে ১২% বেশি জমি আবাদ করতে সক্ষম হয়েছি। গত বছর টার্গেট ছিল ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। এবার আমাদের টার্গেট হচ্ছে ৪ হাজার ৯১০ হেক্টর। যা ইতোমধ্যে আমরা অর্জন করে ফেলেছি।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।