ঝুপড়ি ঘরেই দিনে দুই মণ দুধের চা বিক্রি করেন হেলাল
বড় বড় পাতিলে গরম করা হচ্ছে গরুর দুধ। অন্যদিকে চা বিক্রিও চলছে সমানতালে। এটি সিরাজগঞ্জ শহরের চান্দালী মোড় এলাকার হেলাল উদ্দিনের (২৮) চায়ের দোকানের প্রতিদিনের চিত্র।
চা দোকানি হেলাল সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালশাপাড়া মহল্লার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে চান্দালী মোড় এলাকায় গেলে কথা হয় হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে।
তিনি জাগো নিউজকে জানান, তার এই ঝুপড়ি ঘরে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই দুই মণের বেশি দুধ-চা বিক্রি হয়। ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই তিনি এ চায়ের ব্যবসা করছেন। এতে তার নিজের পাশাপাশি আরও তিনজনের কর্মের ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি আরও জানান, দুই মণ দুধে প্রায় ১ হাজার ২০০ কাপ চা বিক্রি করে গড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়। এ থেকে দুধ, কলা, রুটি, সিগারেট ও মজুরি খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি কাপ চা বিক্রি হয় ১০ টাকায়।
এদিকে চা খেতে আসা সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোকাদ্দেস ইসলাম আপন ও শাহীন সেখ জাগো নিউজকে বলেন, এখানকার গরুর দুধের চা না খেলে দিনই কাটতে চায় না। আবার এখানে আড্ডা না দিলে অনেকের বাড়ির খাবারও হজম হয় না।
চা পান করতে আসা অনেকেই জাগো নিউজকে বলেন, ব্যক্তিগত আড্ডা, রাজনৈতিক আলোচনা, ব্যক্তিগত বা কখনো পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তিও হয় এ চায়ের দোকানে।
এখানে এত মানুষ কেন চা খেতে ভিড় জমান জানতে চাইলে হেলাল উদ্দিন হাসিমাখা মুখ নিয়ে বলেন, চান্দালী মোড়ে গরুর দুধের চা বিক্রির ঐতিহ্য আগে থেকেই ছিল। তাছাড়া বড় পাতিলে সারাদিন দুধ গরম করার পর বিকেলে চায়ের স্বাদ ভিন্ন হয়। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চা বিক্রি হয় তার দোকানে।
এম এ মালেক/এফএ/জিকেএস