ঝালমুড়ি বিক্রি করে শামছুর ৪ যুগ পার

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
ইমিগ্রেশনের সামনে গাছের নিচে বসে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন শামছুর রহমান

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর। এ বন্দরে মানুষের হৈ চৈ নিত্যদিনের চিত্র। জায়গাটি পর্যটন এলাকা না হলেও প্রতিদিন স্থানীয় ও দেশি-বিদেশি মানুষের যাতায়াত চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কাঁধে করে মুড়ির টিন নিয়ে হাজির হন যশোরের ঝিকরগাছা থানার সত্তোরর্ব্ধ ঝালমুড়ি বিক্রেতা শামছুর রহমান। ৪৮ বছর ধরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের সামনে গাছের নিচে বসে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: চা বিক্রি করেই খাদেমুলের মাসে আয় ৯০ হাজার টাকা

বাসের ভাড়া বেশি তাই ট্রেনে যাতায়াত করেন শামছুর। যাওয়া-আসার পথে ট্রেনের ভেতরও কিছু বেচাবিক্রি হয়।

শামছুর রহমানে পাঁচ ছেলে-মেয়ে। এদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তবে তার একটি ছেলে প্রতিবন্ধী। বাকিদের সামান্য লেখাপড়া শিখিয়েছেন। ঝালমুড়ি বিক্রি করে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন।

শামছুর রহমান বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে বেনাপোলে আমি এসব ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। সে সময় সবাই ভাই বলে সম্বোধন করলেও এখন চাচা ডাকে।

আরও পড়ুন: পানচাষে স্বাবলম্বী ছয়ঘরিয়ার চাষিরা

আয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়। এ আয়ে সংসার চলে। এখন সব কিছুরই বাড়তি দাম। মানুষকে সেভাবে আর বেশি বেশি মুড়ি দিতে পারি না।

প্রাইভেটকারচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শামছু চাচাকে আমরা ছোট বেলা থেকে দেখছি ঝালমুড়ি নিয়ে ছুটাছুটি করতে। এখানে ট্রাকচালক ও ভারত বাংলাদেশের অনেক মানুষ তার ঝালমুড়ি খেয়ে প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: মোয়া বিক্রি করে আইয়ুব আলীর প্রতিদিন আয় আড়াইশ

বেনাপোল চেকপোস্টের জিএম আশরাফ জাগো নিউজকে বলেন, শামছুর রহমান একজন রসিক মানুষ। তাকে আমি ছোট বেলা থেকে দেখছি। তিনি এ চেকপোস্ট এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে আসছেন। মাঝে মধ্যে তিনি ক্লান্তি দুর করার জন্য গান গেয়ে থাকেন।

জামাল হোসেন/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।