ভাষার মাস

নওগাঁর ৩ গ্রাম থেকে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। তাই এ মাস ঘিরে ফুল ব্যবসায়ীদের পূর্বপ্রস্তুতিও থাকে। বাড়তি দাম পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেন তারা।

ফুল চাষের জন্য নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের লখাইজানি, তারতা ও উল্লাসপুর স্থানীয়ভাবে নার্সারি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে গোলাপ ও গাঁদা ফুলের চাষ করা হয়েছে। সারাবছর এসব ফুলের কমবেশি চাহিদা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এসব বাগানে মেরিন্ডা, লিংকন, টাটা, ডিলাইট, তাজমহল, ইরানি ও থাই জাতের গোলাপ এবং গাঁদা ফুলের চাষ করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাশের জয়পুরহাট, বগুড়া ও রাজশাহী জেলায় চলে যায় এখানকার ফুল।

কথা বলে জানা গেলো, সব ধরনের গোলাপ পাইকারিতে পাঁচ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। আর গাঁদা বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ৫০ পয়সা। তবে কয়েকদিন পর গোলাপ প্রকারভেদে ১০ থেকে ২০ টাকা পিস এবং গাঁদা দেড় টাকা থেকে দুই টাকা পিস বিক্রি হবে। এসব ফুল বাগান ও নার্সারিতে প্রায় ২০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী।

ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এবার ফুলের দাম একটু বেশি হবে। চলতি মাসে এই তিন গ্রাম থেকে অন্তত এক কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

ছয় বছর ধরে ফুল বাগানে নিয়মিত কাজ করছেন ইছাহাক আলী। তিনি বলেন, ফুলের বাগানে সারাবছরই কাজ থাকে। নিড়ানি, গাছের পরিচর্যা ও ফুল তোলাসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়। দিনে ৪০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। যেহেতু প্রতিদিনই কাজ থাকে এজন্য সংসার চালাতে তেমন একটা সমস্যা হয় না।

লখাইজানী গ্রামের সোহেল নার্সারির স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপ ও গাঁদা ফুলের চাষ করেছি। বর্তমানে গোলাপ ফুল পাইকারিতে পাঁচ টাকা ও গাঁদা ফুল ৫০ পয়সা পিস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর গোলাপ ফুল ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং গাঁদা ফুল দেড় থেকে দুই টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হবে। এক মাসে প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার আশা। এর মধ্যে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাশের জয়পুরহাট, বগুড়া ও রাজশাহী জেলায় ফুল সরবরাহ করা হয়।

একই গ্রামের নাহিম নার্সারির স্বত্বাধিকারী সেলিম মণ্ডল বলেন, এ এলাকায় ১২ জন ফুল চাষি আছেন। যেখানে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ফুলের বাগান রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে গোলাপ ও গাঁদা মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে। এছাড়া আরও দুইটি বাগানে প্রায় ১০ লাখ টাকার গোলাপ ফুলের কাটিং কলম বিক্রি হবে।

শহরের গাঁজা গোলার মোড়ের ফুলপট্টির তরফদার ফুল ঘরের স্বত্বাধিকারী রায়হান তরফদার বলেন, এখানে তিনটি ফুলের দোকান রয়েছে। এছাড়া শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছোট কয়েকটি ফুলের দোকান আছে। এ মাসে সবগুলো দোকান মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা। তবে করোনারা কারণে গত দুই বছর ফুলের ব্যবসায় মন্দা গেলেও এবার ভালো হবে বলে আশা করছি।

আরেক দোকানি সাদিক ইসলাম সজিব বলেন, স্থানীয় ফুল চাষিদের কাছ থেকে গোলাপ, গাঁদা ও কাঠবেলী চেন ফুল সংগ্রহ করা হয়। তবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, বিভিন্ন গোলাপ ও অর্কিডসহ অন্য ফুল যশোর ও ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ মাসে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও মাতৃভাষা দিবস রয়েছে। আশা করছি, ভালো বেচাকেনা হবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, জেলায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সময় মৌসুমি ফুলের চাষ হয়ে থাকে। জেলায় প্রতিবছরই ফুল চাষ বাড়ছে। বাড়ছে ফুলের চাহিদাও। ফুল চাষে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

আব্বাস আলী/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।