লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়ি ভাঙচুর, ৪ জনকে মারধর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার মান্দারী ও দিঘলী ইউনিয়নে বিএনপি ও ছাত্রদলের চার নেতাকর্মীকে পিটিয়ে জখমের খাবরও পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন এসে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তার মোটরসাইকেল, বাসায় থাকা দুটি ফ্রিজ, বেসিন, আলমিরা, শোকেস ভাঙচুর করা হয়। তবে নির্দিষ্টভাবে হামলাকারীদের নাম বলতে পারেননি তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, বিএনপিসহ শরিকদল আন্দোলনে সাড়া জাগাচ্ছে। এ আন্দোলনকে দমাতেই আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাড়িতে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে। কিছুদিন আগে দু’বার আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘হমলার ঘটনাটি সত্য। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রোগ্রাম করেছি। কিন্তু বিএনপি নেতা বিল্লাল আমার বাড়ির হওয়ায় সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে একটি অংশ এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা হয়েছে কি-না তা আমরা জানি না। কেউ আমাদের জানায়নি। তবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়পক্ষের কর্মসূচি আছে তা জানি। এতে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

অন্যদিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রদল নেতা জাহের ইসলাম জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে জানান, শনিবার ইউনিয়নভিত্তিক বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। এ কর্মসূচিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিঘলী ইউনিয়নের পূর্ব দিঘলী বাজার এলাকায় দিঘলী বিএনপির সদস্য তসলিম আহমেদ ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তানজীদ হোসেনকে পেটানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে মান্দারী ইউনিয়ন চৈতল্লা এলাকায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তানজীদ হোসেন রিয়াজকে মারধর করা হয়। দুপুরে যোহরের নামাজের সময় দিঘলীর পশ্চিম জামিরতলি গ্রামের বাড়ি থেকে বের হতেই তাকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন ধাওয়া করে। পরে তিনি পালিয়ে যান। এরপর তার খোঁজ না দেওয়ায় সামির (১২) নামে এক স্কুলছাত্রকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তালেব বলেন, রিয়াজ লোকজন নিয়ে আসার পথে কে বা কাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এতে আমাদের কেউ জড়িত নয়। আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ করেছি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা ঘটনা আমরা শুনিনি। প্রত্যেক ইউনিয়নে পুলিশ কাজ করছে।
কাজল কায়েস/এসজে/এমএস