দিবস
মায়ের পা ধুয়ে সন্তানদের ভালোবাসা
মায়ের পা ধুয়ে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করলো টাঙ্গাইলের হাতেখড়ি প্রি-প্রাইমারি স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ দিনে প্রতিবারের মতো এবারও ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের এসপি পার্কে মায়েদের হাত ধরে আসতে থাকে শিক্ষার্থীরা। মগে পানি নিয়ে পার্কে সারিবদ্ধভাবে বসা মায়েদের পা ধুয়ে দেয় সন্তানরা। একইসঙ্গে ভালোবাসার স্লোগান সম্বলিত মেডেল মায়েদের গলায় পরিয়ে দেয় তারা। সন্তানদের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মায়েরা।
অভিভাবক নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘সন্তানের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাবো, কখনো কল্পনা করিনি। শিশুদের ছোট থেকে যা শেখানো হবে, বড় হয়েও তারা তা অনুসরণ করবে। স্কুলের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

অভিভাবক মাহবুবা খান জ্যোতি বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম সন্তান। ভালোবাসা দিবসে মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেছি অনেক ভালো লাগছে। আমি চাই এ ধরনের আয়োজন প্রতি বছর হোক।’
শিশু শান্তা খান জানায়, ‘আমি মায়ের পা ধুয়ে দিয়েছি। মাকে মেডেল পরিয়ে দিয়েছি। আমার খুব ভালো লাগছে।’
তামিম ইসলাম জানায়, ‘মাকে অনেক ভালোবাসি। মা যখন অফিসে থাকে আমি খুব মিস করি। আজ মাকে সারাদিন পেয়েছি। মায়ের পা ধুয়ে দিয়েছি। স্কুলের বন্ধুরা মায়ের পা ধুয়ে অনেক মজা করেছে। শিক্ষকরাও আমাদের মজার মজার চকলেট উপহার দিয়েছেন।’

হাতেখড়ি প্রি-প্রাইমারি স্কুলের চেয়ারম্যান নওশাদ রানা সানভী বলেন, ‘বিশেষ এ দিনে ভালোবাসা পাওয়ার প্রথম দাবিদার মা-বাবা। যদিও তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের কোনো বিশেষ দিন প্রয়োজন হয় না। বিশেষ এ দিনে শিশুদের মনে বাবা-মায়ের প্রতি অটুট ভালোবাসা এনে দিতেই আমরা ব্যতিক্রমী আয়োজন করি। আমরা প্রতিটি শিশুকে শিখিয়ে থাকি বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।’
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। শিশুরা তাদের মায়ের পা ধুয়ে সম্মান দেখিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এমন অনুষ্ঠান আমি প্রথম দেখলাম।
আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এমএস