লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৫

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
গাছি গুঁড়ি ফেলে পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগ নেতা বিএম শাহজালাল রাহুলের অনুসারীরা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মাছঘাট নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে রাসেল হোসেন (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা বিএম শাহজালাল রাহুলসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মিয়ারহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় রাহুলের অনুসারীরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।

আটক রাহুল দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। আটক অন্যরা- হলেন রাহুলের অনুসারী রাকিব হোসেন, মিনহাজুল ও সুমন হোসেন। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৫

এর আগে সকালে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের মিয়ারহাট মাছঘাট এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা বিএম শাহজালাল রাহুল ও ইউপি সদস্য (মেম্বার) নজরুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে কিশোর রাসেল মারা যায়। রুহুল আমিন ও ফারুক ক্বারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে রুহুল আমিন সদর হাসপাতালে ও ফারুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত

নিহত রাসেল চরকাছিয়া গ্রামের মনির হোসেন ভুট্টুর ছেলে। সে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নজরুল ইসলামের ভাতিজা। আহত রুহুল আমিন একই এলাকার আলী সর্দারের ছেলে। অপর আহত ফারুক আওয়ামী লীগ নেতা রাহুলের অনুসারী বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সকালে রাসেল ও তার বাবা মনির চর থেকে মিয়ারহাট ঘাটে আসেন। এ সময় ঘাটে রাহুলের অনুসারী ফারুক ক্বারীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় রাহুলের অন্য অনুসারী রাকিব হোসেন, মিনহাজুল ও সুমন জড়ো হন। উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। হঠাৎ রাকিব ছুরি দিয়ে রাসেলের পেটে আঘাত করে। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রাসেল মারা যায়।

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৫

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে রাহুলসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পুলিশের হাত থেকে রাহুলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তার অনুসারীরা। পুলিশ গাছের গুড়ি সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটকদের থানায় নিয়ে যায়।

নিহত রাসেলের ফুফু রুনিয়া বেগম বলেন, ‘রাহুলরা আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। মার্চ-এপ্রিল নদীতে নিষেধাজ্ঞা আছে। এতে মৎস্য বিভাগ ক্যাম্প করতে চেয়েছিল মিয়ারহাট ঘাটে। রাহুল এ ক্যাম্পের বিপক্ষে ছিলেন। আমার ভাই নজরুল ও মনির ক্যাম্পের পক্ষে থাকায় রাহুলের লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার সময় রাহুলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে রাসেলকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মো. মিন্টু ফরায়েজী জাগো নিউজকে বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাহুল ও নজরুলের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে একজন মারা গেছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাহুলসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান আখন জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি অনেক বড় ছিল। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এ ঘটনায় পাঁচজন আটক আছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।