ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া/ ছবি: কেসিএনএ

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ উৎক্ষেপণের পরীক্ষা তদারকি করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, বুধবার (৪ মার্চ) পাঁচ হাজার টন ওজনের নতুন ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিয়ন’ থেকে সমুদ্র থেকে স্থলভাগে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। জাহাজটির আনুষ্ঠানিক কমিশনিংয়ের আগেই এই পরীক্ষা চালানো হয়।

কিম জং উন এই পরীক্ষাকে নতুন যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতার একটি ‘মূল উপাদান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি উত্তর কোরিয়ার সমুদ্র প্রতিরক্ষার একটি নতুন প্রতীক।

আরও পড়ুন>>
পারমাণবিক শক্তি আরও বাড়াতে ‘নতুন পরিকল্পনা’ ঘোষণা কিমের
যুক্তরাষ্ট্রকে উ. কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে
প্রথমবারের মতো পারমাণবিক সাবমেরিনের মালিক উত্তর কোরিয়া

একই সঙ্গে তিনি একই শ্রেণির বা এর চেয়েও উন্নত আরও যুদ্ধজাহাজ তৈরির আহ্বান জানান। কিম বলেন, দেশটির নৌবাহিনীতে পারমাণবিক অস্ত্র সংযোজনের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পানির নিচে ও পানির অন্য দিক থেকে আঘাত হানার জন্য আমাদের নৌবাহিনীর শক্তি দ্রুত বাড়বে। নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চলের নামপো জাহাজঘাঁটিতে দেওয়া বক্তব্যে কিম আরও বলেন, এই সাফল্যগুলো দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় পরিবর্তন এনেছে, যা গত অর্ধশতাব্দীতে অর্জিত হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া সাধারণত ‘কৌশলগত’ অস্ত্র শব্দটি ব্যবহার করে এমন অস্ত্র বোঝাতে, যেগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতা থাকতে পারে।

কেসিএনএ জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিনের সফরে কিম জং উন নামপো শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন পাঁচ হাজার টনের ‘চো হিয়ন’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলোর মধ্যে প্রথম জাহাজটি পরিদর্শন করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী নৌ আধুনিকায়ন কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা লাগে। সে সময় চংজিন শিপইয়ার্ডে একই শ্রেণির আরেকটি ডেস্ট্রয়ার পানিতে নামানোর সময় দুর্ঘটনায় উল্টে যায়।

পরে এক বিরল স্বীকারোক্তিতে কেসিএনএ জানায়, জাহাজ নামানোর যন্ত্রে ত্রুটির কারণে ডেস্ট্রয়ারটির পেছনের অংশ আগে পানিতে পড়ে যায়। এতে জাহাজের কাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামনের অংশটি জাহাজঘাটেই আটকে থাকে।

তখন কিম জং উন এই ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক কাজ’ বলে আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।