তেলের অভাবে বন্ধ হাসপাতালের দুই অ্যাম্বুলেন্স
তেলের অভাবে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে প্রায় তিনগুণ টাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দুটি দীর্ঘদিন চালু থাকলেও প্রায় মাস দেড়েক ধরে গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তেল বরাদ্দ না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তেল বরাদ্দ ও নতুন চালক পাওয়া গেলে আবার অ্যাম্বুলেন্স দুটির সেবা চালু করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ এ সেবা চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না।
বুধবার (৫ এপ্রিল) হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণের উত্তর-পশ্চিম পাশে গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গ্যারেজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স দুটি শাটার টেনে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে।
বোয়ালমারী পৌর সদরের বাসিন্দা দেলোয়ার কাজী জাগো নিউজকে বলেন, তিনি তার অসুস্থ দাদিকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে চাইলে তাকে জানানো হয় হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ রয়েছে। পরে তাকে প্রায় তিনগুণ টাকা দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়।
রুপাপাত ইউনিয়নের বনমালীপুর গ্রামের অলোক মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, আমার বড় ভাই মুক্তি রাম মন্ডলকে বোয়ালমারী হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিপাকে পড়তে হয়। সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে পরে ২৫শো টাকা দিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।
অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. রোকনুজ্জামান শেখ রোকন জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় মাস দেড়েক ধরে দুটি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ রয়েছে। তেল বরাদ্দ নেই। আগের তেলের টাকা পরিশোধ না করায় পাম্প থেকে তেল বাকি দিচ্ছে না। যার কারণে অ্যাম্বুলেন্স দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্সের তেল বাবদ প্রায় ২২ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। পরিষদের একটি অ্যাম্বুলেন্স চালু রয়েছে। বোয়ালমারী হাসপাতাল থেকে ফরিদপুরের ভাড়া প্রায় দুই হাজার থেকে পঁচিশশো টাকা নেওয়া হয়। আর সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৮০০ টাকা।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম এম নাহিদ আল রাকিব জাগো নিউজকে বলেন, তেল বরাদ্দ না থাকায় আপাতত অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে। আবার তেল বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সেবা চালুর চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অ্যাম্বুলেন্স চালকের চাকরি আছে আর মাত্র মাস দেড়েক। নতুন করে অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ দেওয়া না হলে তেল বরাদ্দের পরও এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে না। তবে কবে নাগাদ এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তেল কম বরাদ্দ পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে (অর্থ) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবার এই সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকের চাকরি যদি দেড় মাস থেকে থাকে তাহলে এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত আকারে নতুন চালকের আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফএ/জেআইএম