নারায়ণগঞ্জ

অস্থায়ী বাঙ্গির বাজারে মেলে টাটকা সবজিও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ০২ মে ২০২৩

ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ লিংক রোডের যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী গড়কূল এলাকায় গেলেই দেখা মিলবে রাস্তার ধারে শতাধিক কৃষক বসে আছেন। তাদের সামনে বিভিন্ন আকারের বাঙ্গি। এই সুযোগে কেউ কেউ আবার বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি নিয়েও বসেছেন। তবে বাঙ্গির পরিমাণই বেশি। আর এসব বাঙ্গি ও সবজি মাত্রই ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে।

কৃষকরা সরাসরি ক্ষেত থেকে তুলে এনে রাস্তার ধারে বসে গিয়েছেন বিক্রির জন্য। আর এই বাঙ্গি দেখে যাত্রাপথে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে দরদাম করছেন। দরদামে মিললে বাঙ্গি কিনে আবার গন্তব্যস্থলে রওয়ানা হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে দিনদিন কৃষি জমি কমছে। তবে এখনো শহর লাগোয়া সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে কিছু কৃষি জমি রয়েছে। যেখানে কৃষকরা বিভিন্ন রকমের ফসল ফলিয়ে থাকেন। তারই অংশ হিসেবে প্রতিবছরই বক্তাবলী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা বাঙ্গি চাষ করে থাকেন।

আর এসব কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ বাঙ্গি বিক্রি করার জন্য ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ লিংক রোডের গড়কূল এলাকায় রাস্তার ধরে বসেন। প্রতিদিন শতাধিক কৃষক বিভিন্ন রকমের বাঙ্গি নিয়ে বসেন। প্রতি কৃষকের গড়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মতো বাঙ্গি বিক্রি হয়ে থাকে।

মিন্টু নামে এক কৃষক বলেন, বিগত চার-পাঁচ বছর ধরেই বাঙ্গির মৌসুমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়ে থাকে। অস্থায়ীভাবে এই বাজারটা এখানে বসে। প্রতিদিন ভালোই বেচাকেনা হয়ে থাকে। এখানে সব জায়গার ক্রেতারাই আসেন। অনেকে ঘুরতে এসেও এখান থেকে নিয়ে যান। আমাদের বাঙ্গিতে কোনো ফরমালিন নেই। সরাসরি জমি থেকে তুলে এনে এখানে বিক্রি করে থাকি। এখানে প্রায় শতাধিক চাষি আছেন।

হাফিজুল নামে আরেক কৃষক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ঢাকার মানুষজন বিক্রমপুর যাতায়াত করেন। তারা যাওয়ার পথে যানবাহন থামিয়ে এখান থেকে কিনে নিয়ে যান। আমার প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার টাকা বিক্রি হয়। বাজারে গেলে হয়তো এই বিক্রি হতো না। অনেক সময় টাটকা জিনিস দেখে লোকজন বেশি দামেও কিনে নিয়ে যান। এখানকার ফলে কোনো ফরমালিন দেওয়া হয় না। জমি থেকে তুলে এনেই এখানে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

বাঙ্গি কিনতে আসা আরিফুর রহমান শৈবাল বলেন, আমি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আসার পথে দেখলাম এখানে বাঙ্গি বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম তারা জমি থেকে তুলে নিয়ে এসে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ আবার সবজিও বিক্রি করছেন। কম টাকায় যদি টাটকা ফল পাওয়া যায় তাহলে তো আর কথায় নেই। তাই কেনার জন্য নেমে পড়লাম।

সাইয়েদ মোল্লা নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, বাঙ্গিগুলো দেখে অনেক ভালো মনে হয়েছে। তাই কিনেছি। এখানকার লোকজন সরাসরি জমি থেকে তুলে এনে বিক্রি করছেন। যেহেতু ক্ষেত থেকে তুলে এনে বিক্রি করছেন তাই এটা ফরমালিনমুক্ত টাটকা ফল।

তিনি আরও বলেন, টঙ্গিবাড়ি যাওয়ার পথে প্রায়ই এখান থেকে সবজি কিংবা বাঙ্গি কিনে নিয়ে যাই। বাজারে গেলে এই টাটকা জিনিস পাবো না।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তাহমিনা আক্তার রিনা জাগো নিউজকে বলেন, এখানে প্রতি বছরই এক হেক্টরের মতো জমিতে বাঙ্গির চাষ করে থাকেন কৃষকরা। হেক্টরপ্রতি ১৯ থেকে ২০ টনের মতো ফলন হয়ে থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও তাদের বেশ ভালো ফলন হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক লিটন দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, বাঙ্গি ভালো একটি ফসল। নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়নের গড়কূল এলাকায় হেক্টরপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টনের মতো ফলন হয়ে থাকে। সেখানকার কৃষকরা স্থানীয়ভাবেই বীজ সংগ্রহ করে করেন। আগামী বছর থেকে তাদের ফলনটা আরও বৃদ্ধি করার সব রকমের সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।