দুই সপ্তাহে যমুনার পেটে এক কিলোমিটার এলাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ০৫ জুন ২০২৩

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গত দুই সপ্তাহে খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে আরকান্দি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙনে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীরপাড়ের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার।

অভিযোগ রয়েছে, ডাম্পিংয়ের জন্য জিও ব্যাগে বালু ভরাট করতে নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকেই বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজার মেশিন বসিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঠিকাদার। এতে জিও ব্যাগ ফেলার দুই-একদিন পরেই আবার সেখানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তাদের মতে, এভাবে নদীর ভাঙনরোধ সম্ভব না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরিভিত্তিতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেয়। তবে জিও ব্যাগ ভরাট করতে ভাঙন এলাকার কাছ থেকেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ভাঙনরোধে নদীর পাড়ে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করলে ও তা কাজে আসছে না। কারণ, যেসব স্থানে বস্তা ফেলা হচ্ছে দুদিন না যেতেই সেখানেই আবার ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

এ ভাঙনের কারণ হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনায় বিলীন হওয়া এলাকার ৫০ থেকে ১০০ গজের মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে বস্তা ফেলার কয়েকদিন না যেতেই আবার ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও ভাঙন রোধ হচ্ছে না।

ব্রাহ্মণগ্রামের নাজমা খাতুন, আব্দুল কাদের, ইয়াহিয়া, জহুরুল ইসলাম, এমদাদুল হক মিলন, আরকান্দি গ্রামের মেহেদী হাসান, হালিমা খাতুন ও রোমান সরকারের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড শুষ্ক মৌসুমে বস্তা ফেলার কাজ না করে পানি বৃদ্ধি হলে শুরু করে। এতে ঠিকাদার লাভবান হলেও আমাদের ভাঙনের ঝুঁক ঠিকই থেকে যায়।

তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার নদীর পাড়ে বালুর বস্তা ফেলার নামে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ট্রলারে করে বালু বিক্রি করছে। এতে ভাঙনের তাণ্ডব আরও বাড়ছে।

তবে ভাঙন এলাকায় বস্তা ফেলার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত প্রতিনিধি খোরশেদ আলম, জয়নাল সরকার ও ফজলু ব্যাপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বস্তায় ভরে নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। কোথাও বালু বিক্রি করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শাহজাদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান বলেন, ভাঙন এলাকা থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানার পর খুকনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবকে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছে। এতে ভাঙন দূর হবে। তবে ওই এলাকা থেকে যদি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ভাঙন এলাকার পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ভরে তা ডাম্পিং করা হলে আবার ভাঙন দেখা দেবে। ঠিকাদার এমন কাজ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম এ মালেক/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।