ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদ আনতে গিয়ে রক্তাক্ত বৃদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ এএম, ১২ জুন ২০২৩

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ আনতে গিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন মো. ওবায়দুর রহমান (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোনা মিয়ার লোকদের হামলায় তিনি আহত হন।

রোববার (১১ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে এর মীমাংসা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আগামী জুনে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর যাবে ট্রেন

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলিমাঝি গ্রামের মো. ওবায়দুর রহমান রোববার দুপুরের দিকে ওয়ারিশ সনদের জন্য রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদে যান। তিনি সনদ চাইলে ওই ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোনা মিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে মেরে মারাত্মক জখম করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি পরিষদ ভবনে হামলা ভাংচুরের অভিযোগে পুলিশ রূপাপাত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ মোল্লা (২৪), রূপাপাত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহিদুল মোল্লা (৪০) ও ফরিদপুর রাজেদ্র কলেজের সম্মান শ্রেণির ছাত্র সৌরভকে আটক করে পুলিশ।

আহত ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে একটি ওয়ারিশ সনদ আনতে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি আমার গ্রাম কোথায় জিজ্ঞেস করেন। কলিমাঝি বাড়ির কথা বলতেই গালি দিয়ে বলেন, তোরা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিস। পরে কথা তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেন। খবর পেয়ে আমার গ্রাম থেকে লোকজন আমাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা বা ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন: সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা শুকরের কামড়ে আহত ১

এ বিষয়ে রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (সোনা) বলেন, শিশু কার্ডের চাল দিচ্ছিলাম। এ সময় একটা লোক এসে কম্পিউটার অপারেটরকে তার ভোটার আইডি কার্ড বের করে দিতে বলেন। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলাম কি হয়েছে, তখন তিনি আমাকে বলেন ভোটার আইডি কার্ড বের করে দিতে। ভোটার আইডি কার্ড উপজেলা থেকে দেওয়া হয় বলার পর বলেন, তুই আমাকে আইন শেখাস। তখন বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলে কলিমাঝি বলার পর বলছি, কলিমাঝি বলেই এরকম ব্যবহার করেন। বলার সাথে সাথেই তিনি (ওবায়দুর) আমার উপর হাত তুলেছেন। তখন আমার লোকজন তাকে সামান্য মারধর দিয়েছে। খবর পেয়ে তার লোকজন এসে পরিষদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, আহত ওবায়দুর রহমান থানায় এসেছিল। তাকে আগে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি ওয়ারিশ সনদ আনতে গেলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয়। খবর পেয়ে কলিমাঝির এক দেড়শো লোক গিয়ে পরিষদ ভবনে হামলা চালায়। খবর পেয়ে ডহরনগর ফাঁড়ি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তিনজনকে আটক করে।

এ ঘটনার পরে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আহতের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার চেয়ারম্যান বহন করবেন। আর আটকদের স্থানীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোনা মিয়া, শেখর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল মোল্যা, রূপাপাত ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি কোবাদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহিদুল হক প্রমুখ।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোশারফ হোসাইনের বক্তব্য জানতে রোববার রাতে তার মোবাইলে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এন কে বি নয়ন/জেএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।