জামিনে বেরিয়ে হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২৩
নিহত জাকারিয়া ফকিরের ছবি হাতে মা তাসলিমা বেগম ও অভিযুক্ত মোরাদ মোল্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে মোরাদ মোল্যা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

জানা যায়, স্থানীয় বিরোধের জেরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া এলাকার মৃত হারুন ফকিরের ছেলে জাকারিয়া ফকিরের সঙ্গে ওই একই এলাকার মোরাদ মোল্যার বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে ২০২০ সালের ২৮ মার্চ মোরাদ মোল্যার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাকারিয়া ফকিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মার্চ সকালে জাকারিয়া মারা যান।

এ বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম প্রথমে ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।

এছাড়া মামলার এজাহার নামীয় ১৮ জন আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এদের মধ্যে আটজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞেসবাদে পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে আরও আটজনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড রুজু করা হয়।

এদিকে বর্তমানে হত্যা মামলার সব আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছেন। এরপর থেকেই হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোরাদ মোল্যার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন মামলা তুলে নিতে বাদী ও তার পরিবারের লোকজনকে চাপ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছেন। এতে মামলার বাদী ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

নিহত জাকারিয়ার ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, আসামি মোরাদ মোল্যার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন আমাকে ও পরিবারের সদস্যদের নানা রকম হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের গরু দিয়ে আমাদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট করছে। আমি নিষেধ করতে গেলে তারা আমাকে মারধরের হুমকি দিয়েছে। এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছি। দ্রুত বিচার আইনে ভাই হত্যার বিচার চাই।

জাকারিয়ার বোন শরিফা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি শ্বশুরবাড়ি থাকি। মাঝেমধ্যে বাবাবাড়িতে আসার পথে মোরাদ মোল্যা আমাকেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়।

জাকারিয়ার বৃদ্ধা মা তাসলিমা বেগম (৬৪) ছেলের শোকে এখনো কাতর। ছেলে হারানোর সেই করুণ আর্তনাদ আজও শেষ হয়নি। মরার আগে ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখে যেতে চান তিনি। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে হত্যা মামলার আসামি মোরাদ মোল্যা বলেন, আমি এখন বাড়িতে থাকি না। আমি লোহাগড়া থাকি। তাই বাদীর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অভিযোগ সঠিক নয়। সব মিথ্যা কথা।

আলফাডাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।