রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির অভিযান শুরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার থেকে
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৩

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যৌথ অভিযান চালিয়েছে ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), জেলা পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার ভিডিপি সদস্যরা।

ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আমির জাফর বলেন, ক্যাম্পের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে শনিবার বিকেল থেকে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথমদিন ১৪ এপিবিএন নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযানের সূত্রপাত করা হয়। এপিবিএনকে সহযোগিতা করতে জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার ভিডিপি সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে যেকোনো সময় এ অভিযান চলবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

আরও পড়ুন: টাকা আসে বিদেশ থেকে, প্রশিক্ষণ মিয়ানমারে

১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, ক্যাম্পে ঘটমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয় মঙ্গলবারের বিশেষ সমন্বয় সভায়। চলমান রোহিঙ্গা সংকটের ষষ্ঠ বছর উদযাপনের পরই অভিযান শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার অভিযান শুরু হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির অভিযান শুরু

তিনি আরও বলেন, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই প্রথম দিনের অভিযান চলেছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার পালংখালী থেকে আরসার অর্থসম্পাদক হিসেবে পরিচিত মাওলানা ইউনুসকে পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলবারসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আমরা তৈরি আছি, সবার সমন্বয়ে একেক সময় একেকটি ক্যাম্পে অভিযান চালানো হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির অভিযান শুরু

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বিদেশি অনুদান এবং মাদক চোরাচালান থেকে পাওয়া টাকায় উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আরসার তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিমাসে আসা টাকায় কেনা হয় অস্ত্র-গোলাবারুদ, যা দিয়ে প্রায় সময়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে শক্তি জানান দেয় আরসা। ৩ আগস্ট রাতে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে এপিবিএনের সঙ্গে আরসার সন্ত্রাসীদের আড়াই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরসার তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে এপিবিএন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। এরই মধ্যে অস্ত্র, ইয়াবাসহ বেশ কিছু অপরাধী ধরাও পড়েছে। এখন থেকে সমন্বয় করে বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালানো হবে।

সায়ীদ আলমগীর/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।