কিশোরীকে আটকে রেখে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার গণধর্ষণ
গাজীপুরে এক কিশোরীকে দু’দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।
গণধর্ষণের অভিযোগে আটকরা হলেন, ওই ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম শহীদ (২৬), স্থানীয় ছাত্রলীগের সদস্য নাহিদ হাসান (২৮), লন্ড্রি ব্যবসায়ী সুজন (৩০) এবং স্থানীয় মুদি দোকানি ধর্ষণের সহযোগিতাকারী মুক্তা বেগম (৩০)।
এ ঘটনায় কিশোরীর (১৬) মা বাদী হয়ে ওই ৪ জনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন।
পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরিটির মা জানান, স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি এলাকার হরিণাচালার আমতলায় বিল্লাল শিখদারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত কিছুদিন যাবৎ স্থানীয় লন্ড্রি মালিক সুজন তার কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সুজন পূর্বে বিবাহ করায় এবং তার একাধিক সন্তান থাকায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। তার মেয়েকে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য সুজন স্থানীয় যুবলীগ নেতা শহিদ ও ছাত্রলীগ নাহিদের স্মরণাপন্ন হয়।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় কথা আছে বলে স্থানীয় মুদি দোকানদার মুক্তা বেগম ওই কিশোরীকে এলাকার সুমনদের সাত তলা ভবনের সপ্তম তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীটিকে কৌশলে কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে আসে মুক্তা বেগম। রাতে নাহিদ, শহিদ ও সুজন ওই বাড়িতে গিয়ে কিশোরীটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
পরদিন শুক্রবারও তারা ওই বাসায় গিয়ে একই ভাবে কিশোরীটিকে ফের ধর্ষণ করে। শনিবার তারা কিশোরীটিকে ছেড়ে দেয়।
কিশোরীটির মা আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেয়ে বাসায় না ফেরায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেন। এক পর্যায়ে শনিবার বাসায় ফিরলে কিশোরীটি তার উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি তাকে জানায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর সেলিম রহমানকে জানানো হয়।
জয়দেবপুর থানা পুলিশের কোনাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোবারক হোসেন জানান, কাউন্সিলর সেলিম রহমান অভিযুক্তদের রোববার তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দুপুরে অভিযুক্তদের আটক এবং ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় পাঠানো হয়।
জয়দেবপুর থানা পুলিশের ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, এ ঘটনায় তিন ধর্ষক ও এক নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আমিনুল ইসলাম/এমএএস/এবিএস