কুষ্টিয়া

বিএনপি নেতার মৃত্যুর ৭ বছর পর মামলা, আসামি সাবেক এম‌পি-ডি‌সি-এস‌পি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
নিহত বিএনপি নেতা এম. এ. শামিম আরজুর

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ. শামিম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়ে এক মা‌সের মধ্যে এ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা চলমান আছে কি না তা জানাতে কু‌ষ্টিয়া মডেল থানার ও‌সিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিষয়‌টি নি‌শ্চিত করেছেন কু‌ষ্টিয়া সদর আমলী আদালতের পেশকার সোহাগ হো‌সেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- কু‌ষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান, সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন, তৎকালীন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার, সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান, সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার, শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম, সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন ও মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ এলাকার মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া ডিসি অফিস সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। এ সময় পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এছাড়া শামীম আরজুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটক অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে আরজু অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদি এস. এম. ফুয়াদ শামীম বলেন, বাবাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে। চি‌কিৎসা দেওয়া হয়‌নি। সাবেক এম‌পির নির্দেশে আটক করে‌ছিল পু‌লিশ। অসুস্থতার কথা ডি‌সিকে জা‌নিয়েও কোনো কাজ হয়‌নি। নির্যাতন ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই বাবার মৃত্যু হয়েছে।

বাদির আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, বিএন‌পি নেতা এম, এ শামীম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা গিয়ে‌ছিলেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে গুমের ভ‌য় দেখাতো ফ্যাসিস্টরা। তাই এত‌দিন মামলা করতে পা‌রি‌নি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ সংক্রান্ত আদালতের কোনো নির্দেশনা এখ‌নও হাতে পাইনি।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।