শার্শায় পরীক্ষা দিতে না দেয়ায় কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি


প্রকাশিত: ০৭:৫৪ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৬

যশোরের শার্শায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় কেন্দ্র সচিবকে পদ থেকে অব্যহতি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার থেকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান।

জানা যায়, নাভারণ কলেজের ছাত্র রনি হোসেনের রেজিস্ট্রেশন কার্ড না থাকায় নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ কেন্দ্র সচিব কলেজের উপাধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু তাকে পরীক্ষা দিতে দেননি বলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। পরে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় উক্ত কেন্দ্র সচিবকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

পরীক্ষা না দিতে পারা ছাত্র রনি জানান, যশোর বোর্ডের অধীনে ২০১৬ সালের অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে না থাকায় গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে ১০টা ১০মিনিটে এক প্রকার জোর করে প্রবেশ করলে কেন্দ্র সচিব লায়লা আফরোজা বানুর কাছে বিষয়টি জানানো হয়। তখন তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে বাইরে বের করে দেন।

বিষয়টি নাভারণ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলকে জানানোর পর তিনি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু লায়লা আফরোজা বানু কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে বলেন এখন সম্ভব নয়। যশোর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ঐ সময় নাভারণ ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান হয়। পরে তিনি লিখিত আকারে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। পরে বিকালে বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

পরীক্ষার্থী রনি জানান, আমার বাবা একজন কৃষক এবং গরীব খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক কষ্ট করে আমার লেখাপড়ার খরচ চালায়। ধার দেনা করে পরীক্ষার টাকা জোগাড় করে দিয়েছে। আমি পরীক্ষা দিতে না পারায় অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

নাভারণ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল বলেন, এধরণের ঘটনার জন্য মূলত কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ী। কেন্দ্র সচিবের অব্যবস্থাপনার কারণে একটি ছেলে পরীক্ষা দিতে পারেনি।

এ ব্যাপারে নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ কেন্দ্র সচিব লায়লা আফরোজ বানু (উপাধ্যক্ষ) জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ সবের কিছুই জানা নেই আমার এবং এই ধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অব্যহতির বিষয়ে আমি সরকারিভাবে কোনো অফিস অর্ডার পাইনি। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছ থেকে জেনে নিন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্র সচিব কলেজের উপাধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানুকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামানকে মঙ্গলবার থেকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামাল হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।