বাওড় যদি না থাকে তাইলি জাল দিয়ে কি করবো
‘বাওড় যদি না থাকে, তাইলি জাল দিয়ে কি করবো? বাওড় চইলে গেলি প্রধানমন্ত্রীর দিয়া জাল ফিরোয়ে দিতি অবে।’ যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ বাওড় নিয়ে ষড়যন্ত্রে দিশেহারা চাপাতলা মালোপাড়ার মৎস্যজীবীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে এভাবেই হতাশা ব্যক্ত করলেন।
মৎস্যজীবীরা জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে বাওড়ে তারা মাছ ধরে আসছেন, সেই বাওড়টি এখন ভুঁইফোড় সমিতির নামে বরাদ্দ দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এ ষড়যন্ত্রের কথা জানান বাহিরঘাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা। সংসদ নির্বাচনের পর তাণ্ডবের শিকার অভয়নগরের এই চাপাতলা মালোপাড়া পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের নানারকম সাহায্য সহযোগিতার অংশ হিসেবে ওই জাল দিয়েছিলেন।
বাহিরঘাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ১৯৭২ সাল থেকে প্রেমবাগ বাওড়ে বাহিরঘাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা মাছ চাষ করে আসছে। কিন্তু আগামী মৌসুমে প্রেমবাগ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি ভুঁইফোড় সংগঠনকে বাওড় ইজারা দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। যে সমিতিতে কোনো মৎস্যজীবী নেই। ওই সমিতিতে ১২ জন মৎস্যজীবীকে তাদের তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করলেও তারা পদত্যাগ করেছেন। তাই ওই সমিতিকে বাওড়ের বন্দোবস্ত দেয়া হলে তা হবে ২০০৯ সালের সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনার নীতিমালা ২ এর ক ও খ ধারা নীতিমালা বহির্ভূত।
বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস আরও জানান, সংসদ নির্বাচনের পর অভয়নগরের চাপাতলা মালোপাড়ায় তারা নরকীয় তাণ্ডবের শিকার হয়েছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই মৎস্যজীবীদের জীবিকার জন্য জাল দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি বাওড়টাই কেড়ে নেয়া হয় তাহলে তারা তো বেকার হয়ে পড়বেন। তাই তাদের কষ্ট বোঝাতেই প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জাল ফেরতের কথা বলেছেন তারা। প্রেমবাগ বাওড় যাতে এই সমিতির কাছেই থাকে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাপাতলা গ্রামের মৎস্যজীবী বিশ্বজিৎ সরকার, শেখর বর্মন, শান্তুনু সরকার, শচীন সরকার, লাল্টু সরকার, মোহন সরকার, মঙ্গল সরকার প্রমুখ।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস