যশোরে এনজিও কর্মী হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৪
ফাইল ছবি

যশোরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কর্মী আব্দুল কুদ্দুস হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া মামলার অপর চার আসামি খালাস পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ রায় দেন। স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঝিকরগাছার মল্লিকপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে ইউনুস আলী ও মৃত মনু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া। এদের মধ্যে ইউনুস আলী কারাগারে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কুদ্দুস জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর শাখায় মাঠকর্মী ছিলেন। ২০০৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি কির্তিপুর গ্রামে কিস্তির টাকা আদায়ে যান। এরপর আর অফিসে ফিরেননি এবং তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন তার সন্ধান না পেয়ে ওই গ্রামে খোঁজ নিতে যান এবং জানতে পারেন আব্দুল কুদ্দুস ওই গ্রামের ইউনুস আলীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। শাখা ব্যবস্থাপক সর্বশেষ ইউনুসের বাড়িতে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান আব্দুল কুদ্দুস তার বাড়িতে আসেনি।

এরপর জাগরণী চক্রের লোকজন ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে ইউনুসের বাড়ির পাশে কচু ক্ষেতে আব্দুল কুদ্দুসের ছাতা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ও নিখোঁজ আবদুল কুদ্দুসের পরিবারের লোকজন মল্লিকপুর গ্রামের আসে। রাতে সন্দেহজনকভাবে ইউনুসের বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে তল্লাশি করে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আব্দুল কুদ্দুসের ভাই মাগুরা শালিখার বাগডাঙ্গা গ্রামের নুরুল আমিন মোল্যার ছেলে শামসুর রহমান বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুসের আদায় করা কিস্তির টাকা কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে আসামিরা। আব্দুল কুদ্দুস ইউনুসের বাড়ি গেলে তিনি কিস্তির টাকা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কুদ্দুসকে মারপিট করে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় আসামিরা। এরপর গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে বস্তায় ভরে তার সঙ্গে ইটভর্তি একটি বস্তা বেঁধে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

মামলা সাক্ষ্য গ্রহণকালে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ মারা যাওয়ায় তাকে অব্যহতি দেয় হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি ইউনুস আলী ও রনি মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডদেন আদালত।

মিলন রহমান/এএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।