রামগড় সীমান্তে দু’দেশের মানুষের মিলন মেলা
ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান উৎসবকে ঘিরে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির রামগড় ও ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম সীমান্তের ফেনী নদী পরিণত হয় বাংলাদেশ ও ভারত দু’দেশের লাখো মানুষের মিলন মেলায়।
উভয় দেশের হাজারো দর্শনার্থীর সমাগমে দিনব্যাপী মুখরিত থাকে ফেনী নদী এলাকা।
বৃটিশ আমল থেকেই চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতি বছর ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হয় দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। তারা পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পন করে এখানে। নদীর দুই তীরে দুই দেশের পুরোহিতরা সকালেই বসেন পূজা আর্চনা জন্য। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা ছাড়াও নিজের পুণ্যলাভ ও সকল প্রকার পাপ, পংকিলতা থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ফেনী নদীর বারুণী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বী আবাল-বৃদ্ধাবণিতা।
সকাল ৭টা থেকেই শুরু হওয়া বারুনী স্নান উৎসব। স্নান কিংবা পূজা আর্চনা ছাড়াও দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্যও অনেকে ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে। বাঙালি-হিন্দু ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী ত্রিপুরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অসংখ্য পুণ্যার্থীর সমাগম হয় এখানে।
চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন সমতল জেলা ছাড়াও খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি প্রভৃতি এলাকা থেকে এ আদিবাসী নারী পুরুষ পুণ্য স্নানে অংশ নিতে ছুটে আসেন ফেনী নদীতে।
ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী মেলা উপলক্ষে বহুকাল থেকেই এদিন দুদেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকার সুবাদে এপার বাংলার মানুষ ছুটে যায় ওপারের সাবরুম মহকুমা শহরে, আবার ওপারের লোক এসে ঘুরে যান সীমান্ত রামগড়। এ মেলাকে ঘিরে দু’দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির মেল বন্ধন।
বারুণী মেলায় শুধু বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নয়, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষেরও সমাগম ঘটে এখানে। বারুণী স্নান একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও দু’দেশের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের সমাগমে সার্বজনীন আনন্দ মেলায় পরিণত হয় ‘বারুণী উৎসব’।
এমএএস/এবিএস