টানা ২৪ ঘণ্টা অন্ধকারে শার্শা উপজেলাবাসী
কাল বৈশাখীর তাণ্ডবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) একটানা ২৪ ঘণ্টা দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
কখন বিদ্যুৎ আসবে তা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলতে পারে না। তবে রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন একজন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত দু’মাস যাবত বন্দরসহ গোটা উপজেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলেও সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না এখানে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ নির্ভর এখানকার বন্দর কাস্টমস, ব্যাংকসহ সব শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহতসহ সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামার উপক্রম হয়েছে।
নাগরিক জীবন যাপনও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মোটরের সাহায্যে পানি তুলতে না পেরে বাসাবাড়িতে গোসলসহ ধোয়া মোছা কাজে নাকাল হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
এক দিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্বিসহ। এ অবস্থায় এখানকার হাজার হাজার গ্রাহক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। গভীর রাতে বিদ্যুৎ দিলেও আধা ঘণ্টা চলার পর আবার চলে যাচ্ছে। এভাবে দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ই কর্তৃপক্ষ পুরো বন্দর এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। বিদ্যুতের চাহিদা নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান পূরণ করলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা ভাড়া করা জেনারেটরের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাল বৈশাখীর ঝড়ে গাছ পালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে এখনো পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার সর্বত্র টানা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর শার্শার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনোয়ারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝড় শুরুর পর থেকে বেনাপোল বন্দর ও শার্শা উপজেলায় বিদ্যুৎ নেই। সবকটি অঞ্চলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ তারের উপর গাছপালা পড়ে আছে। সেগুলো অপসারণের চেষ্টা চলছে। রাতের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।
জামাল হোসেন/ এমএএস/এবিএস