মোক কি স্কুলত ভর্তি করি নিবে
ভিক্ষা করতে ইচ্ছা করে না, কষ্ট হয়। স্কুলে যামু (যাওয়া) পড়াপড়ি বড় অফিসার হমু (হব)। মোক (আমাকে) কি স্কুলত ভর্তি করি নিবে? এভাবে কথাগুলো বলছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান (৭)।
দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী শিশু মেহেদীকে তিন বছর বয়সে মা ছেড়ে গেছেন। তখন থেকেই দাদীর কাছে। মায়ের আদর, স্নেহ, কোনটাই পাইনি মেহেদী। ক্ষুধা আর দারিদ্র্যতার কষাঘাতেই তার বেড়ে উঠা। একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেহেদী ? সমাজের বাকী শিশুদের মতোই বেড়ে উঠতে চায় সে।
লালমনিরহটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্নাহাট এলাকার চিলা খাল ব্রিজের পাশে থালা হাতে নিয়ে দুই হাত বাড়িয়ে ব্রিজের এক কোণে মাটিতে বসে বলছেন আছেন কেউ, আমাকে দুই এক টাকা দেন। এ বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই খাতা, কিন্তু দারিদ্র্যতার কষাঘাতে তার বদলে আজ ভিক্ষার থালা।
জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার পুর্ব সিন্দুর্না গ্রামে রেজাইল ইসলামের ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসানকে (৭) ছেড়ে মা জেসমিন আক্তার তিন বছর আগে অন্য একজনকে বিয়ে করে ঢাকা থাকেন।
মেহেদীর বাবা রেজাইল ইসলামও পাড়ি দেন ঢাকা শহরে। অসহায় শিশু মেহেদীকে দেখাশুনার ভার নেয় তার দাদী রেজিয়া বেওয়া। অভাবের তাড়নায় দাদী তাকে থালা নিয়ে প্রতি হাটে ব্রিজের পাশে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য বসিয়ে দেন। প্রতি হাটে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভিক্ষা করে কোনো মতে সংসার চলে রেজিয়া বেওয়ার। লালমনিরহাট প্রতিবন্ধী স্কুলে মেহেদীকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল কিন্তু ছয় মাস থাকার পর একা চলতে না পাড়ায় আবার দাদীর কাছে ফিরে আসে। 
রেজিয়া বেওয়া জানান, জন্মের তিন বছর পর অজানা রোগে দিন দিন দুইটি চোখ নষ্ট হতে থাকে মেহেদীর। চিকিৎসা করাতে পারেনি অর্থের অভাবে। তার বাবা, মাও অনেক আগে ছেড়ে চলে গেছে। অভাবে পড়ে লজ্জা ভুলে গিয়ে নাতিকে দিয়ে ভিক্ষা করায়। প্রতিবন্ধী ভাতা হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য সবার কাছে গিয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি।
হাতীবান্ধা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহাবুবুল আলম জাগো নিউজকে জানান, সিন্দুর্না ইউনিয়নে এখনও প্রতিবন্ধী জরিপ শেষ হয়নি। জরিপে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেহেদী হাসানের নাম তালিকায় আসলে আমরা তাকে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করবো।
রবিউল হাসান/এসএস/পিআর