ত্বকী হত্যাকাণ্ড : আজমীর ওসমানকে গ্রেফতারের দাবি
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীর ওসমানকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা ও ত্বকী হত্যার চার্জশিট প্রদানের দাবি জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে মোম শিখা প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এদিকে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যার ৩৭ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও অভিযোগপত্র প্রদানের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মাসিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে ত্বকী হত্যার পাশাপাশি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম উদ্দিন হত্যা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু, সাগর রনি হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দাসহ হত্যার বিচার দাবি করেন তারা।
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘রাজন রাকিবের সৌভাগ্য যে তাদের হত্যাকারীরা সরকার দলীয় কেউ না। এজন্যই সাড়ে তিন মাসের মধ্যে তাদের বিচার হয়ে যায়। কিন্তু ত্বকী হত্যা, সাগর রুনি হত্যা, আশ্বিক হত্যা, চঞ্চল হত্যার বিচার হয় না। এমনকি তাদের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রও দেয়া হয় না। কারণ এসব হত্যাকাণ্ডে সরকার দলের লোকজন জড়িত রয়েছে। তারপরও আমরা হত্যার বিচার চেয়ে যাবো। কারণ এ দেশ শুধু একটি পরিবারের না।
তিনি আরো বলেন, সরকার হত্যাকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। যার কারণে এসব হত্যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। তাই অবিলম্বে আজমীর ওসমানকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র দেয়া হোক। মামলা, হুমকি, জিহবা কাটার ভয় দেখিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। এমনকি ত্বকী হত্যার বিচার দাবি আদায়ে আমরা পিছু হটবো না। নারায়ণগঞ্জের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। যে পরিবারটি নারায়ণগঞ্জের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেই পরিবারটির বিচার সরকারই করুক। এ দায়ভার সরকার না নিক। নারায়ণগঞ্জ কোনো ঘাতকের শহর না।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্ধিক, সিপিবির জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সুজিত সরকার, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তারিকুল সুজন, শ্রমিক নেতা দুলাল সাহা, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি অঞ্জন দাস, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলার সভাপতি মশিউর রহমান রির্চাড প্রমুখ।
প্রসঙ্গ, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮ জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের ৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি।
মো. শাহাদাত হোসেন/একে